শাহরাস্তিতে মসজিদের মুসল্লিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, আহত ৫, আতঙ্কে এলাকাবাসী
এইচ এ বাবলু
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার মেহের উত্তর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামে অবস্থিত দেবীপুর শাহ আকবর খন্দকার জামে মসজিদে দাতা সদস্য, খাদেম ও সাধারণ মুসল্লিদের ওপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৫ জন মুসল্লি আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি ও পরবর্তীতে ৬ই মার্চ) জুমার নামাজের পরপরেই এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন— জয়নাল আবেদীন, পিতাঃ সেকান্দর আলী, মোঃ কাউছার, পিতাঃ দেলোয়ার হোসেন, জালাল আহমেদ, পিতা : জয়নাল আবেদিনসহ আরো কয়েকজন। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজ চলাকালে বর্তমান কমিটি মানি না বলে এলাকার একদল দুর্বৃত্ত। তারপর জুমার নামাজের পরে হঠাৎ করে মসজিদ আঙ্গিনায় মুসল্লিদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা এলোপাতাড়ি মারধর করলে মসজিদের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুসল্লিরা জীবন বাঁচাতে দিকবিদিক ছুটতে থাকেন।
আহত এক মুসল্লি জানান, শান্তিপূর্ণভাবে আমরা নামাজ পড়তেছি, নামাজের পরপরই দেবীপুর গ্রামের আমির হোসেন ভূঁইয়ার পুত্র যথাক্রমে মোঃ সেলিম, মোঃ মহসিন, মোঃ সুমন ও একই এলাকার মোঃ শামিম হোসেন, পিতাঃ দেলোয়ার হোসেন, মোঃ গোলাম মোর্শেদ রুবেল, পিতাঃ মৃতঃ আবুল হাশেম মসজিদের দাতা সদস্য, খাদেম ও সাধারণ মুসল্লিদের উপর হামলা চালায় ও মসজিদের খাদেমকে হত্যার হুমকি দেয়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা নামাজ পড়ছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন লোক মসজিদের ভেতরে ঢুকে হামলা শুরু করে। এতে কয়েকজন মুসল্লি গুরুতর আহত হন।”
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “ধর্মীয় স্থানে এ ধরনের হামলা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মৃতঃ আমির হোসেনের পুত্র মোঃ মহসিন জানান, মসজিদের দাতা, খাদেম ও মুুসল্লিদের উপর হামলার অভিযোগ টি মিথ্যা। তবে ওই দিন জুমার নামাজের পর দুই পক্ষের সাথে কথা কাটাকাটি হয়।
মেহের উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম মজুমদার জানান, দেবীপুর মসজিদে মুসল্লিদের উপর হামলার ঘটনাটি আমি অবগত হই। তবে মসজিদের দাতা, খাদেম ও সাধারণ মুসল্লিদের উপর হামলা কোন ভাবেই কাম্য নহে।
এ বিষয়ে মসজিদ সংশ্লিষ্ট একজন জানান, এই মসজিদটি দাতা পরিবার এলাকার লোকজন নিয়ে ভালো ভাবেই পরিচালনা করে আসছে। হঠাৎ করে বহিরাগতরা এসে বলছে তারা দাতা পরিবার, মোতয়াল্লির পরিচালনা মানে না।
আমি ওদের শান্ত করতে গেলে তারা আমাকে হামলা করতে উদ্যত হয়।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ হয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, দেবীপুর মসজিদে হামলার বিষয়ে আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনার বিষয়টি আরো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





