সিরাজগঞ্জে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, নারী ও শিশুকে মারধর
ওয়াসিম সেখ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার সাহেবগঞ্জ বাজারের আলম চাঁদপুর (সড়াবাড়ী) গ্রামে জোর করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী আব্দুর রহমানসহ তার ভাইদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ও তার মেয়েকে মারধরসহ প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করা হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।
এব্যাপারে ভুক্তভোগী নারী মোছাঃ জাকিয়া সুলতানা (৩৬), জানান আলম চাঁদপুর মৌজায় ২৫.২৫ শতক জমি মোছাঃ খাদিজা খাতুনের নিকট হতে ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখল করে আসছি। উক্ত জমিতে তার একটি বসতঘর রয়েছে এবং তিনি মেয়েকে নিয়ে সেখানে বসবাস করেন। তার স্বামী কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকেন।
তিনি আরো বলেন, আমি আমার মেয়েসহ ক্রয় কৃত নিজ বাড়িতে বসবাস করি এবং উক্ত জমি রাস্তা সংলগ্ন হওয়ায় বিবাদী গংরা আমার জমি তাদের দখলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে পায়তারা করে আসছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৭ মার্চ সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে একই এলাকার মোঃ আব্দুর রহমান (৪৮), মোঃ আবুল হামিদ (৪৪), মোঃ আব্দুল আলীম (৪০), মোঃ আব্দুল বারী (৩৮), মোঃ আসিফ (৩৫), মোছাঃ জোৎস্না (৪২), মোছাঃ জুলেখা (৪২), মোছাঃ হেনজেলা (৩৫), মোছাঃ মনিরা (৩২), মোছাঃ আইরিন (২৯), মোঃ আব্দুল মোমিন (২১) ও মোঃ খাইরুল (২৩) সহ আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাদের জমির ভিতর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করার সময় বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগী নারী জাকিয়া সুলতানাসহ তার মেয়ে ১১ বছর বয়সী মোছাঃ তাবেরীকে মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়। এসময় স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। অভিযুক্তরা যাওয়ার সময় বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে সলঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আব্দুর রহমানের সাথে কথা বলা হলে বিষয়টা অস্বীকার করে বলেন আমরা তাদেরকে মারধর করি নাই, তারা তো সামনের জমি পাবে না, আর আমাদের জায়গায় আমরা বেড়া দিয়েছি।
এ ব্যাপারে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম জানান,”আমরা অভিযোগ পেয়েছি জোর করে প্রতিবেশীর জমি দখল এবং নারী ও তার বাচ্চা মেয়েকে মারধরের। জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়ে থানায় কোনো করণীয় নেই। তবে জমি-জমা সংক্রান্তের বিষয়টা বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করতে হবে। নারী ও তার মেয়েকে মারধরের বিষয়টা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





