বানারীপাড়ার চাখারে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
চাখারে সজল’র নেতৃত্বে প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রতিকার ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন।
বানারীপাড়া(বরিশাল) প্রতিনিধি।।
বরিশালের বানারীপাড়া’র চাখারে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে মাদকসেবনের আখড়া তৈরি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সজল হোসেন(শাওন),তার সহযোগী আওয়ামী দোসর কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মাসুদ পারভেজ ও মাসুক পারভেজকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও নিরীহ মানুষের নামে দায়েরকৃত হয়রানীমুলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বলিয়ারকাঠী ও চাখারের সর্বস্তরের জনতার উদ্দ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।১ এপ্রিল, রোজ বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় চাখার ফজলুল হক ইনষ্টিটিউশন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে চাখারের বলিয়ারকাঠী এলাকার জনপ্রতিনিধি সহ কয়েকশত নারী-পুরুষ অংশগ্রহন করেন। এ সময় বক্তারা সজল হোসেন শাওন ও তার ফুপাতো ভাই মাসুদ পারভেজ ও মাসুক পারভেজের বিরুদ্দ্বে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম,বাড়িতে মাদক ব্যাবসা ও মাদককের আখড়া বসানো,এলাকার নিরীহ মানুষের উপর হামলা ও হয়রানীমুলক মিথ্যা মামলা দায়ের,অব্যাহত খুন-জখমের হুমকি সহ বিভিন উশৃঙ্খল কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরে এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের কাছে তাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়ে নিরীহ মানুষের নামে দায়েরকৃত হয়রানীমুলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। এ সময় শাওনের চাচাতো কাকা একই বাড়ির বাসিন্দা মুকুল হাওলাদার জানান,গত ২৩ মার্চ, সোমবার তাদের চাচাতো ভাই মরহুম আলকাছ হাওলাদারের দোয়া অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিকেল ৪টার দিকে পুর্ব বিরোধের জেরে সজল হোসেন শাওন তার ছোট কাকা আমিনুল ইসলাম ঝন্টু ও স্ত্রী সানজিদা এবং একমাত্র মেয়েকে খুন-জখমের হুমকি ও মারধরের চেষ্টা করলে ওই বাড়িতে উপস্থিত থাকা বানারীপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম সহ সকল মুরুব্বী পুরুষ-মহিলা ও মেহমানরা অনুষ্ঠানের কথা বলে সজলকে শান্ত থাকা ও দিনক্ষন ঠিক করে বসে বিষয়টি ফয়সালা করার অনুরোধ করেন।এ সময় সজল কারো কথা না শুনে উলটো সবাইকে অশ্লীল ভাষায় গালা-গাল ও বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নাম ভাঙ্গিয়ে ক্ষমতার অপব্যাবহার করে সেখানে উপস্থিত থাকা অনেককে খুন-জখম সহ নানা হুমকি দেয়। কিছুক্ষন পরে অহেতুকভাবে সজল ও তার সহযোগী মাসুদ পারভেজ ও মাসুক পারভেজ লাঠি-সোটা নিয়ে মারধর করার চেষ্টা চালায়।এ সময় মুকুল হাওলাদার,সাইদুল ইসলাম সহ সকলে সজলকে শান্ত করে ফিরিয়ে দেন। বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে বলিয়ারকাঠী বায়তুস সালাত জামে মসজিদের সামনের রাস্তায় সজল, মাসুদ ও মাসুক উপস্থিত হয়ে সেখানে বসে থাকা লোকজনের উপর লাঠি-সোটা ও লোহার রড দিয়ে হামলা চালিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী সাজিদ বিল্লাহ(১৬), স্থানীয় ইব্রাহিম(৩৪), কাইয়ুম(২১), হোচেন(১৮),ওবাইদুলকে আহত করে। স্থানীয়রা তাদের প্রতিহত করেত গেলে সেখানে উপস্থিত হয়ে দুলাল হাওলাদার, সাইদুল দরবেশ, মিজান, মাইনুল সহ অনেকে পরিস্থিতি শান্ত করে সবাইকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন।এর কিছুক্ষন পরে সজল, মাসুদ ও মাসুক বাড়ির ভিতর ঢুকে চাচা আমিনুল ইসলাম ঝন্টুর ঘড়ের জানালার থাইগ্লাস ভাংচুর করে এবং ঝন্টু, তার স্ত্রী সানজিদা ও মেয়েকে মারধর করে এলাকা ত্যাগ করে।এ ঘটনায় সজলের কাকা বানারীপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পরে নাটক সাজিয়ে সজল হোসেন বরিশাল আদালতে সাইদুল ইসলাম,দুলাল দরবেশ,ওবায়দুল ইসলাম,হোচেন,ইব্রাহিম, রুবেল হাওলাদার,পার্শ্ববর্তী গ্রামের মাইনুল মল্লিক,রুবেল,রাজিবকে আসামী করে বরিশাল আদালতে হয়রানীমুলক মিথ্যা মামলা দায়ের করে।মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।এদিকে সজলের সেঝ চাচা মফিজুল ইসলাম মন্টু জানান, সজল হোসেন শাওন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার অফিসের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হওয়ার সুবাধে বিভাগীয় কমিশনারের ভয় দেখিয়ে ও তার নাম ভাঙ্গিয়ে কিছুদিন পূর্বে হামলা চালিয়ে তার হাত ভেঙে দিয়েছে। এমনকি জোরপুর্বক পুকুরে থাকা লক্ষাধিক টাকার মাছ ধরে বিক্রি করে দিয়েছে। এছাড়া ছোট চাচা আমিনুল ইসলাম, তার স্ত্রী সানজিদা ইসলাম এবং ছোট মেয়েকে কয়েকবার মারধর করেছে।এ ছাড়া প্রায় দুই লাখ টাকার কবুতর ও বিক্রি করে দিয়েছে সজল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। তাছাড়া বেশ কয়েকবার ঝন্টুর ঘড়ের উপর হামলা চালিয়ে থাইগ্লাস সহ ঘড় ও সিসি ক্যামেরা ভাংচুর করে নানারকম ক্ষতি সাধন করেছে সজল, মাসুদ, মাসুক ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা।মন্টু আরো জানান, সন্ত্রাসী সজল হোসেন শাওন,মাসুদ পারভেজ ও মাসুক পারভেজের হামলা ও প্রতিনয়ত খুন-জখমের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং দীর্ঘদিন যাবৎ তারা এলাকা ছেড়ে ঢাকা-খুলনা সহ বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়াছেন।
যে কারনে ঝন্টুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া একমাত্র মেয়ের পড়া-লেখা ও বন্ধের উপক্রম।
তারা এ ব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক,জেলা পুলিশ সুপার, বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশ কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগীরা।





