সরকারি মাহাতাব উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ
মোঃ হামিদুজ্জামান জলিল স্টাফ রিপোর্টার।
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের সরকারি মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রী কলেজটি নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় হারাতে বসেছে কলেজটির ঐতিহ্য। এটি উপজেলার সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও সেখানে লেখাপড়ার পরিবেশ ক্রমান্বয়ে ঝিমিয়ে পড়ছে । ১৯৬৬ সালে স্থাপিত কলেজটিতে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ না থাকাই শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে । ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট কলেজটি জাতীয়করণের পরেও শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হয়নি।
দীর্ঘদিন নানা ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানটি চললেও অধ্যক্ষ চিন্ময় বাড়ৈ যোগদানের পর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশ সুন্দর হবে এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে এমনটিই ধারণা করেছিলেন অভিভাবক ও সুধী সমাজ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য অধ্যক্ষ প্রফেসর চিন্ময় বাড়ৈ সরকারি মহাতাব উদ্দিন ডিগ্রী কলেজে যোগদানের এক বছর পূর্ণ হতে চললেও প্রতিষ্ঠানটির দৃশ্যমান পরিবর্তন করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। বরং নানা অব্যবস্থাপনা এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে স্বয়ং অধ্যক্ষের বিরুদ্ধেই। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, অধ্যক্ষের অফিসিয়াল অনুমতি ব্যতীত কলেজে দীর্ঘ অনুপস্থিতি, প্রতিষ্ঠানটিতে ক্রয় কমিটির নিষ্ক্রিয়তা,অপূর্ণাঙ্গ এবং অকার্যকর শিক্ষক পরষদ গঠনের নামে ফান্ড তৈরি, কলেজ চত্বর এর পুরাতন গাছ কাটা,চুক্তিভিত্তিক দুই জন নিয়োগ, ২০২৬ সালের এইচ এসসি একাধিক পরীক্ষার্থী নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ব্যতীত বোর্ড পরীক্ষার ফরম ফিলাপের সুযোগ প্রদান, অত্যাবশ্যকীয় এবং পরিবহন (পরিবহন না থাকলেও) চার্জ নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের সংকটে তারা ঠিকমত পাঠদান গ্রহন করতে পারে না,এসব ক্ষেত্রে দ্রুত কার্যকারী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়াসহ নানা অভিযোগ। কলেজে ক্রয় কমিটি থাকলেও তাদের মাধ্যমে কেনাকাটা না করে অধ্যক্ষ নিজেই সবকিছু ক্রয় করেন বলে কলেজটির ক্রয় কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেন।
কলেজের একাধিক শিক্ষক বলেন, অধ্যক্ষ স্যার ঠিকমতো কলেজে আসেন না এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে চলেন। এমনকি কলেজে মুভমেন্ট রেজিস্টার খাতা থাকার পরও তিনি বিভিন্ন সময় কলেজের কাজের নাম করে অনুপস্থিত থেকেও রেজিস্ট্রার খাতায় তা উল্লেখ করেন না। গাছ কাটা, ভাঙ্গা চেয়ার, বেঞ্চ টেবিল নিয়মবহির্ভূতভাবে বিক্রি করেছেন তিনি। একাডেমিক কাউন্সিল আমাদের কলেজে নেই বললেই চলে, সব সিদ্ধান্ত উনি উনার ইচ্ছা মত নেন। অধ্যক্ষ চিন্ময় বাড়ৈ যোগদানের সময় কলেজের ব্যাংক হিসাবে ৫৫ লক্ষ টাকা গচ্ছিত ছিল। তারপরে নিয়মিত প্রতিষ্ঠানটির আয় ব্যয় হলেও অধ্যক্ষ আর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকৃত বড়বাবু রজব আলী ছাড়া কেউ জানে না । কলেজে লেখাপড়ার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তার নজর নেই। তিনি কতিপয় শিক্ষক কর্মচারী নিয়ে নিজস্ব বলয় তৈরি করে বহাল তবিয়াতে আছেন । সকল প্রকার অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম রয়েছে। যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে। ইতিমধ্যে কলেজটির বিভিন্ন খাতে মোটা অংকের টাকা তসরুপের বিষয়ে তথ্য প্রমান প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে।
অধ্যক্ষ প্রফেসর চিন্ময় বাড়ৈর সাথে এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব সত্য নয়। আমি চেষ্টা করছি কলেজটিকে এগিয়ে নিতে। তবে বেশ কিছু অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি বিধিমালার কোনো তথ্য বা পরিপত্র তিনি এই প্রতিবেদককে দেখাতে পারেননি।
সরকারি মহাতব উদ্দিন ডিগ্রী কলেজে বিদ্যমান নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে কলেজটি পুরনো ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলতে বসেছে। স্থানীয় সুধী সমাজ ও সচেতন মহল মনে করে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অতিসত্বর তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী।





