সারাদেশ

সিরাজগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুরগির ছাঁট ব্যবসা, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে জনসাধারণ

ওয়াসিম সেখ,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাটা মুরগি বিক্রির অভিযোগ নতুন নয়। অপরিষ্কার পানি ব্যবহার, অসুস্থ বা মৃত মুরগি জবাই করে বিক্রির ফলে জনস্বাস্থ্যের জন্য তৈরি হচ্ছে মারাত্মক ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব মাংসে সালমোনেলা ও ই-কোলাইয়ের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক থাকার আশঙ্কা থাকে, যা ফুড পয়জনিং, কিডনি জটিলতা এমনকি ক্যানসারের কারণ হতে পারে।
এরই মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুরগির বর্জ্য বা ‘ছাঁট’ অংশের পাইকারি ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার সাইদাবাদ ইউনিয়নের হাট সারুটিয়া গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় মোহাম্মদ আলী, নূর মোহাম্মদ ও বাবলু নামের তিন ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতেই নাকে আসে পচা মাংসের তীব্র দুর্গন্ধ। একটি বাড়ির ভেতরে ফ্রিজ খুলে দেখা যায়, সেখানে বিপুল পরিমাণ বাসি ও উচ্ছিষ্ট মুরগির অংশ মজুত করে রাখা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে তারা এ ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, তারা সিপি লিমিটেড, কাজী ফার্ম এবং হাসিব এন্টারপ্রাইজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে এসব ছাঁট অংশ সংগ্রহ করেন এবং সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে পাইকারি দরে সরবরাহ করেন।
ব্যবসায়ী বাবলু জানান, ঢাকা ও ঘোড়াশাল থেকে এসব ছাঁট মাংস সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ আলী কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। বরং তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা জানান, বাসি বা পচা মুরগির মাংস খেলে ফুড পয়জনিংসহ দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি থাকে। তাই জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুন খান বলেন, “এ ধরনের ব্যবসার বিষয়ে আগে অবগত ছিলাম না। সরেজমিনে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, জনস্বার্থে তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। ভোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কোনো ব্যবসা বরদাস্ত করা হবে না এবং দ্রুত সেখানে অভিযান চালানো হবে।
একজন ক্রেতা বলেন, আমরা এই মুরগি বিক্রি হতে দেখি, কিন্তু এগুলো তাজা না মরা-বুঝার কোনো উপায় নেই।
হাটের এক বিক্রেতা লুৎফর রহমান বলেন, গরিব মানুষ কম দামে কিনে খায়, আবার অনেকে পোষা প্রাণীর খাবার হিসেবেও ব্যবহার করে। আমরা পেটের দায়ে বিক্রি করি।
ব্যবসায়ী বাবলু বলেন, আমরা আট বছর ধরে ব্যবসা করছি। মরা মুরগি নেই। বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করে এসি গাড়িতে করে আনা হয়।
হাসিব এন্টারপ্রাইজের এক ম্যানেজার বলেন, এই পণ্যে কোনো এক্সপায়ারি ডেট দেওয়া হয় না। আমরা কম দামে বিক্রি করি।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুরগির ছাঁট ব্যবসা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। প্রশাসনের নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান বাড়ানোর পাশাপাশি ভোক্তাদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,