হাটহাজারীতে সড়ক ও জনপদ বিভাগকে ম্যানেজ করেই জায়গা ও ঘর দখলের অভিযোগ: চলছে ব্যবসা
হাটহাজারী প্রতিনিধি: বছরের শুরুতে মালিকানা ও প্রথম পক্ষের জেলা পরিষদের অধিগ্রহনকৃত জায়গা খরিদ করে লাগোয়া আরো সরকারি জায়গা দখলে নিয়ে বালুর ব্যবসা করে যাচ্ছে সেলিম নামে এক ব্যক্তি। মহাসড়ক ঘেঁষে বিশাল পাকা বাউন্ডারি দিয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কোটি টাকার জায়গা দখলে নিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরব। এ যেন চোখ থাকিতে অন্ধ। উপজেলার ধলই ইউনিয়নের বালুরটাল এলাকায় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের পাশে জায়গা দখলের এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে জনৈক লিটন মহাজন থেকে কয়েক শতক মালিকানা ও মিলন মহাজন থেকে জেলা পরিষদ থেকে অধিগ্রহনকৃত কিছু জায়গা খরিদ করেন অভিযুক্ত সেলিম। পরে খরিদ ও অধিগ্রহনকৃত জায়গার উপর নিরাপত্তার নামে বাউন্ডারি দিতে গিয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গাও দখলে নেন। একইসাথে সড়ক ও জনপদ বিভাগের তৈরি একটি টিনসেড ঘরও দখলে নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন, কাজ করার সময়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে আসলেও অদৃশ্য কারনে কোন বাধা বা আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের মতে দখলকারী প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বাধা না দিয়ে বরং মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করেই সরকারি জায়গা দখলের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, দখলকৃত জায়গায় বালুর স্তুফের পাশাপাশি মহাসড়কেও বালু স্তুফ করে রাখা হয়েছে বিক্রির উদ্দেশ্য। পরিচয় গোপন রেখে জানতে চাইলে কেয়ারটেকার সেলিম বলেন, হালদার বিভিন্ন স্পট থেকে বালু আনা হয়। তবে কখন কারা বালু আনবে তা জানেন না। কারন হালদা থেকে বালু উত্তোলন অবৈধ। এসব মালিক (সেলিম) জানেন। আবার অন্যান্য দিক থেকেও বালু আনা হয় বিক্রির উদ্দেশ্য। শীঘ্রই ইট ও খোয়া বিক্রি যোগ হবে ব্যবসায়। মালিকানা ও জেলা পরিষদের অধিগ্রহনকৃত জায়গা সাথে মহাসড়ক লাগোয়া জায়গা সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গা বলে স্বীকার করেন তিনি। জানতে চাইলে সেলিম জানান, মহাসড়কের পূর্ব দিকে বাউন্ডারি থেকে শুরু করে সড়ক পর্যন্ত তার খরিদ করা জায়গা। কিছু মালিকানা আর কিছু অধিগ্রহনকৃত জায়গা। অধিগ্রহনকৃত জায়গায় পাকা বাউন্ডারি, স্থাপনা করার নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, এটা সাধারণ অধিগ্রহন নয় এটা কমার্শিয়াল অধিগ্রহন। তবে তার নামে এখনও সরকারিভাবে হস্তান্তর না হলেও স্ট্যাম্পে চুক্তি হয়েছে। মাসে মাসে জেলা পরিষদকে ৮ হাজার টাকা করে পরিশোধ করছেন। আগামি জুন মাসে তার নামে হস্তান্তর হবে। মহাসড়ক লাগোয়া জায়গা জেলা পরিষদের নয় বরং সড়ক ও জনপদ বিভাগের জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, তাতে সাংবাদিকের কি? কেন এসব জানতে চাওয়া হচ্ছে। এক পর্যায়ে কর্তৃপক্ষ চাইলে দখল ছেড়ে দেবেন বলে জানান প্রতিবেদককে। জানতে চাইলে প্রথমে ইতস্তত বোধ করলেও তিনদিন পর বুধবার বিকেলে তাদের জায়গা বলে স্বীকার করেন, হাটহাজারী এরিয়ার উপ সহকারী প্রকৌশলী রঞ্জন বিশ্বাস। তিনি বলেন, মহাসড়ক থেকে বেশ কয়েকফুট ভেতরে তাদের জায়গা। তবে কি পরিমান তা নিশ্চিত করতে সার্ভেয়ার লাগবে। এর মধ্যে দখলকারীকে ছেড়ে দিতে সরেজমিনে মৌখিকভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও মুঠোফোনে জানান তিনি।





