কাজীপুরের কণ্ঠে এক দাবি সংরক্ষিত আসনে কনকচাঁপা, পেছনে সংগ্রাম আর বঞ্চনার গল্প
ওয়াসিম সেখ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা তার রাজনৈতিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও অভিযোগ তুলে ধরে আবারও আলোচনায় এসেছেন। সংগীতাঙ্গনের সফল এই শিল্পী জানিয়েছেন, রাজনীতির ময়দানে তার পথচলা সহজ ছিল না, বরং ছিল নানা প্রতিবন্ধকতায় ভরা।
তিনি জানান, তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালে, যখন খালেদা জিয়া তাকে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। সংরক্ষিত আসনের পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত তার জন্য চ্যালেঞ্জিং হলেও নেত্রীর নির্দেশকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
এর ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কনকচাঁপা। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাকে অনুসরণ করা হতো এবং প্রাণনাশের হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বগুড়ায় সংবাদ সম্মেলনও করেন।
সিরাজগঞ্জ-১ আসনে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের প্রভাব বিদ্যমান। সাবেক নেতা মোহাম্মদ নাসিম একাধিকবার এই আসন থেকে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তার ছেলে তানভীর শাকিল জয় ২০০৮, ২০২০ সালের উপ-নির্বাচন ও ২০২৪ সালে বিজয়ী হন। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম এই ধারার ব্যতিক্রম ছিলেন।
কনকচাঁপা দাবি করেন, রাজনৈতিক কারণে তিনি দীর্ঘদিন সংগীতাঙ্গন থেকেও দূরে ছিলেন। বিটিভি, রেডিওসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে অলিখিতভাবে ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। একজন শিল্পী হিসেবে গান গাইতে না পারা তার জন্য সবচেয়ে কষ্টের ছিল বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ওই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশেও বাধার মুখে পড়তে হয়েছে এবং তার কারণে অন্যদেরও শোকজ করা হয়েছে। এমনকি মোবাইল সিম বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এলাকায় কাজ করলেও দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়টি তিনি মেনে নিয়েছেন বলে জানান। তবে তাকে ঘিরে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “দলের প্রতি আমার আনুগত্য শতভাগ। কিন্তু মিথ্যাচারের মাধ্যমে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সবশেষে কনকচাঁপা বলেন, তার সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের বিচার তিনি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। তবে এসব ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলে তা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, কাজীপুরবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী সংরক্ষিত মহিলা আসনে কনকচাঁপাকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান তারা। তাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে মূল্যায়ন করা উচিত।





