মীমাংসার নামে বিএনপি নেতার চাঁদা দাবি, না দেওয়ায় মামলা। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর অভিযোগ
একেএম বজলুর রহমান, পঞ্চগড়:
পঞ্চগড়ের সদর উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ঝগড়ার জেরে মীমাংসার নামে চাঁদা দাবি, চাঁদা না দেয়ায় মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা সাবুল হোসেন ও তার স্বজন মখলেছ এবং রুপালীর বিরুদ্ধে।
তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
১৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের টেংগনমারী এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও মামলার প্রধান আসামীর ছেলে মাহমুদুর রহমান। এ সময় স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান বলেন, গত ৩০ মার্চ বিকেলে তার ভাতিজা মখলেছ দের বাড়ির গলিতে একটি সুপারি কুড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। এ নিয়ে মখলেছ ও রুপালির সঙ্গে তাদের বাবা-মায়ের ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে রুপালী তার বাবার হাতে কামড় দেন। পরে স্থানীয়রা তাকে ছাড়িয়ে দিলেও সে ছাড়তে চাইছিল না।
মাহমুদুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর রুপালী বেগম তাদের বাড়িতে এসে নিজেই নিজের পাকা মাটিতে নিজেরই মাথা আছড়ে আঘাত করেন। পরে স্থানীয় নারী ইউপি সদস্যসহ এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেন। তার দাবি, ঘটনার সময় কোনো মারামারিই হয়নি। এরপর অভিযুক্তরা হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হয়ে বিষয়টি নিয়ে বিচার বসানোর উদ্যোগ নিলে বিএনপি নেতা সাবুল তার নিজের লোক মাসুমের মাধ্যমে তাদের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় মামলা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা মানিক ও ইউনিয়ন সভাপতি আওরঙ্গজেব বিষয়টি জানেন। তারা সিদ্ধান্ত দিলেও অভিযুক্তরা তা মানেননি। এখন তাদের পরিবার মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নারী সদস্য মালেকা বেগম।
তিনি বলেন, ঘটনার দিন তিনি জানতে পারেন, রুপালি আক্তার ও মখলেছদের সঙ্গে প্রতিবেশী রফিকুল ও মেরি বেগমের ঝগড়া হয়। একসময় রুপালি বেগম নিজে মেরিদের বাড়িতে গিয়ে নিজেই পাকা দেয়ালে মাথায় আঘাত করতে থাকেন। পরে তিনি (মালেকা বেগম) সহ কয়েকজন মিলে রুপালিকে তাদের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন। কিন্তু পরে উল্টো তাকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। তিনি বিষয়টির সঠিক বিচার দাবি করেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা সাবুল হোসেন বলেন, দুই পরিবারই তার পরিচিত। তিনি চেয়েছিলেন বিষয়টি আপোসে নিষ্পত্তি হোক। টাকা দাবির বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকায় চিকিৎসা খরচ বাবদ ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার কথা বলা হয়েছিল। তবে তিনি কোনো চাঁদা দাবি করেননি বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তবে অপর পক্ষ মামলা করলে সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।





