প্রকৃতির কালবৈশাখী বনাম মানব সৃষ্ট কালবৈশাখী”
মুহাম্মদ খালেদ সাইফুল্লাহ
“বৈশাখ মাস” বাংলা বর্ষের প্রথম মাস। যে মাস নিয়ে আসে আমাদের জীবনে আরেকটি নতুন সূচনা, নতুন স্বপ্ন আর নতুন আশার বার্তা।
তবুও এই “বৈশাখ” বিখ্যাত তার “কালবৈশাখী” তাণ্ডবের জন্য। কিছু বুঝা উঠার আগে হঠাৎ করেই আকাশ কালো হয়ে ওঠা, দমকা হাওয়ার ঝাপটা, বিদ্যুতের ঝলকানি, আকাশের গগনবিদারী হুঙ্কার, সব মিলিয়ে প্রকৃতির এক ভয়াল রূপ এ কালবৈশাখী । একসময় এই ঝড়ের নাম শুনলেই বুক কেঁপে উঠত, মনে হতো এ যেন ধ্বংসের দূত।
কিন্তু আজকাল যখন চারপাশে মানবসৃষ্ট ঝড়ের ভয়াবহতা দেখি তখন কালবৈশাখী আর “কাল” মনে হয়না। চোখের সামনে যখন রোজ চলতেছে অন্যায়, অবিচার, হিংসা, স্বার্থপরতা আর নিষ্ঠুরতার নির্মম আঘাত তখন প্রকৃতির সেই কালবৈশাখীকে আর ততটা ভয়ংকর মনে হয় না। বরং মনে হয়, সে তো ক্ষণস্থায়ী, তার তাণ্ডবের পরেই আসে শান্তি, শীতলতা, নির্মল এক প্রশান্তি।
কিন্তু মানুষের তৈরি ঝড় গুলো তো এর চেয়ে হাজার গুণ নিমর্ম। এ ঝড় গুলোর যেন কোনো শেষ-ই নেই। কিছুদিন পর পর নিয়ম করে আমাদের জীবনে আসে আর ভেঙে দিয়ে যায় আমাদের মন, শেষ করে দেয় আশা, কেড়ে নেয় জীবনের সৌন্দর্য আর সুখ।
তাই আজকাল কালবৈশাখী ঝড়কে আর “কাল” বলে মনে হয় না। সে যেন অনেক বেশি নম্র, শুভ্র আর মানবিক। এটা ঝড় প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মের অংশ মাত্র। নিয়ম করে আসে আবার নিয়ম করেই চলে যায়। বরং ভয় জাগায় সেই অদৃশ্য ঝড়গুলো, যা মানুষ তার কুৎসিত মন থেকে সৃষ্ট হয়। যে ঝড় ধ্বংস করে দেয় আমাদের সম্পর্ক, বিশ্বাস আর মানবতার ভিত্তি। যে ঝড়ে ভাঙে সংসার আর সম্পর্ক।
প্রকৃতির কালবৈশাখীতে ভাঙা ঘর আবার গড়া গেলেও মানব সৃষ্ট ঝড়ে যে ঘর ভাঙে সেটা আর ঠিক হয়না। তাই কালবৈশাখী এখন আর আতঙ্ক নয় বরং শান্ত, কোমল, আর এক রকম নির্মলতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আসুন, এ নববর্ষে মানবিক, সৎ, সাহসী, পরিশ্রমী এবং সংগ্রামী হওয়ার শপথ করি। প্রকৃতির ঝড় গুলোকে বরং মানব সৃষ্ট ঝড় গুলোকে ভয় করি। মানব সৃষ্ট ঝড় গুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। নিজে মানবিক হই এবং অপরকে মানবিক হতে সাহায্য করি
সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা। আপনার বছরটি সুন্দর, সফল এবং আনন্দময়ী হোক। আপনার পথ চলা হোক মসৃণ এবং কন্টকবিহী। সাফল্যের চুড়ায় উঠে সাফল্যকে আলিঙ্গন করুন, এই কামনায় করি।





