মাতামুহুরী নদীর বালুর গর্ত কেড়ে নিল স্কুলছাত্র আদরের প্রাণ,
আলফাজ মামুন নুরী
কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে নেমে বালু উত্তোলনের সৃষ্টি হওয়া গর্তে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এক স্কুলছাত্রের। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘটে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা। নিহত আদর দাশ (১৩) চকরিয়া পৌরসভার খোদারকুম হিন্দুপাড়া এলাকার প্রবাসী প্রদীপ দাশের ছেলে এবং চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে সমবয়সী কয়েকজন বন্ধু ও আত্মীয়ের সঙ্গে মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে যায় আদর। নদীর অগভীর পানিতে খেলাধুলার একপর্যায়ে হঠাৎ করেই তলিয়ে যায় সে। আশপাশের লোকজন দ্রুত নদীতে নেমে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা সালাহউদ্দিন বলেন, “প্রথমে মনে হয়েছিল ছেলেটি পানির নিচে ডুব দিচ্ছে। পরে দেখি সে আর উঠছে না। তখন আমরা কয়েকজন মিলে দ্রুত তাকে উদ্ধার করি। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পর জানতে পারি, সে আর বেঁচে নেই।”
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে মাতামুহুরী নদীর তলদেশজুড়ে অসংখ্য গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। এসব গর্তই এখন নদীতে গোসল করতে নামা মানুষদের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর মুজিবুল হক বলেন, “নদীতে বালু তোলার কারণে অনেক জায়গায় নরম গর্ত তৈরি হয়েছে। উপরে পলি জমলেও ভেতরে ফাঁপা ও নরম থাকে। সেখানে পা পড়লে সহজে বের হওয়া যায় না। আদরও এমন গর্তে পড়ে ডুবে গেছে।”
নিহতের বাবা প্রদীপ দাশ বলেন, “বিদেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আত্মীয়স্বজন বাড়িতে এসেছিল ছেলেটা সবার সঙ্গে নদীতে গোসল করতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি।”
ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আদরের মৃত্যুতে সহপাঠী, শিক্ষক ও স্বজনদের মাঝে চলছে কান্না আর আহাজারি।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।





