বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ
অভিযোগ অস্বীকার চিকিৎসকের, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পরিবারের,
আলফাজ মামুন নুরী
কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে ফাহিম নামের এক তরুণের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রাকিবের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেও চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুন সকালে চট্টগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন ফাহিম। পথিমধ্যে বদরখালী কলেজ গেট এলাকায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। পরে বাড়িতে ফিরে আসার পর আবারও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে পায়ে শক্তি হারিয়ে ফেললে স্বজনরা দ্রুত তাকে বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর রোগীর একাধিকবার পড়ে যাওয়া, চলাফেরায় অক্ষমতা এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতির বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো হলেও রোগ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, রোগীকে দীর্ঘ সময় স্যালাইন দিয়ে রাখা হয় এবং অবস্থার অবনতি ঘটলেও চিকিৎসক সরাসরি রোগীকে পর্যবেক্ষণ করতে আসেননি।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম স্যালাইন শেষ হওয়ার পর ফাহিম তীব্র মাথাব্যথা ও বমির কথা জানালে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে চিকিৎসক রোগীকে সরাসরি না দেখে নার্সদের মাধ্যমে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও স্ট্রোকের সম্ভাবনা কিংবা উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়নি। পরে বিকেলের দিকে হাসপাতালেই ফাহিমের মৃত্যু ঘটে বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।
এদিকে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, মৃত্যুর পর দায় এড়াতে রোগীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। এছাড়া চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও প্রেসক্রিপশন পরিবর্তনের অভিযোগও তুলেছেন তারা।
অবহেলা নাকি অনিবার্য মৃত্যু? তদন্তেই মিলবে উত্তর!
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. রাকিব। তার দাবি, রোগীকে হাসপাতালে আনার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল এবং রোগীর অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চিকিৎসা নথিপত্রে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা তথ্য গোপনের অভিযোগও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসীর একাংশ বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের পরিবার কক্সবাজারের সিভিল সার্জন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ, চিকিৎসা নথি ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে।
তবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।





