শাহরাস্তিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের সম্মাননা সভা
“শিক্ষক সমিতির জন্য ভূমি বরাদ্দের উদ্যোগের আশ্বাস এমপি মমিনুল হকের”
এইচ এ বাবলু।।
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরকালীন সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান-২০২৬ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের কল্যাণ, অবসর সুবিধার বৈষম্য দূরীকরণ, কল্যাণ তহবিলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক শিক্ষকদের জন্য সরকারি খাসজমি বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক বলেন, “বর্তমান সরকার একটি শিক্ষকবান্ধব সরকার। শিক্ষকদের মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।” তিনি বলেন, সরকারি খাসজমি খালি থাকলে তা তাঁকে অবহিত করতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিক্ষকদের জন্য ভূমি বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী শিক্ষা সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম মাস্টার। তিনি বলেন, “সমিতির স্বার্থে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষক সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তি তাদের ক্ষতি করতে পারবে না।” তিনি নিজের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
বিশেষ অতিথি শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
মনিরা খাতুন বলেন, “শিক্ষকরাই সমাজ গঠনের মূল কারিগর। একজন শিক্ষক সমাজের কল্যাণের কথা ভেবেই প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। তাঁদের পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব।” এ সময় নবনির্বাচিত কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
শাহরাস্তি পৌরসভা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম বলেন, “শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ধরে রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের আদর্শ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব শিক্ষকদেরই।”
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজি বলেন, “শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আমরা সবসময় পাশে থাকব। নবনির্বাচিত কমিটির প্রতি সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষক নেতারা তাঁদের বক্তব্যে অবসর ভাতা, কল্যাণ তহবিল এবং বেসরকারি শিক্ষকদের বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরেন।
প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মকবুল আহমদ মজুমদার নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানান। সাধারণ সম্পাদক পারবিন সুলতানা লাভলী বলেন, “একজন শিক্ষক চাকরি থেকে অবসর নিলেও তাঁর আদর্শ ও নৈতিকতা কখনো অবসরে যায় না।”
উয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন কল্যাণ তহবিলে অর্থ জমা দিলেও জীবদ্দশায় সেই অর্থের সুফল পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।”
ইছাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া বলেন, “বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা অবসরের পরও কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। এই বৈষম্যের অবসান হওয়া উচিত।”
পরিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আনোয়ার হোসেন মাস্টার বলেন, “মরহুম সিদ্দিকুর রহমান হেডমাস্টারের হাত ধরেই এ সমিতির যাত্রা শুরু হয়েছিল।” তিনি নবনির্বাচিত কমিটির সফলতা কামনা করেন।
এছাড়া মুস্তাফিজুর রহমান, সামছুল হক ভূঁইয়া, রফিক জামান ভূঁইয়া ও মনির মাস্টারসহ শিক্ষক সমাজের বিভিন্ন নেতা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন, অবসর সুবিধার বৈষম্য দূরীকরণ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক উদ্যোগ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। শিক্ষক সমাজের ঐক্য, মর্যাদা ও দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া তুলে ধরার ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজনে পরিণত হয়।





