পিডির সাথে অর্থ কেলেঙ্কারিতে জড়িত সেই ছাত্রনেতা জিসানের আবারো চাঁদার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ বন্ধ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) বিভিন্ন কর্মসূচির নামে অর্থ নেওয়া, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে টাকা গ্রহণ এবং নির্মাণাধীন সড়কের ঢালাই বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পদ স্থগিত সদস্যসচিব *জিসান আহম্মেদের* বিরুদ্ধে।
এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান Corporate Engineering। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে জিসান আহম্মেদ তাঁদের কাছ থেকে অর্থ দাবি ও গ্রহণ করেছেন। অভিযোগের সঙ্গে অডিও রেকর্ড, WhatsApp কথোপকথনের স্ক্রিনশট, ব্যাংক ও bKash লেনদেনের রসিদ, পাঁচ লাখ টাকার RTGS ফরম এবং অন্যান্য নথি সংযুক্ত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, এসব ঘটনার কারণে কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপাচার্যের হস্তক্ষেপ চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
*কর্মসূচির নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ*
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, জিসান বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে অর্থ চাইতেন।
এর পক্ষে দেওয়া একটি WhatsApp কথোপকথনের স্ক্রিনশটে একটি অনুষ্ঠানের দাওয়াতপত্র পাঠানোর পর অর্থসংক্রান্ত হিসাবের একটি ছবি এবং পরে ‘ভাই, ১৫,৬০০/-’ লেখা একটি বার্তা দেখা যায়।
আরেকটি WhatsApp কথোপকথনে একটি নম্বর পাঠানোর পর ‘এটাতে ১০ দিতে পারবেন’ লেখা বার্তা দেখা যায়। পরবর্তীতে একই কথোপকথনে NRBC Planet Transaction Receipt-এর একটি ছবি পাঠানো হয়। ওই রসিদে ৩০ হাজার টাকা একটি bKash নম্বরে স্থানান্তরের তথ্য রয়েছে। লেনদেনের তারিখ হিসেবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ উল্লেখ আছে।
*মোটরসাইকেলের জন্য পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ*
লিখিত অভিযোগের আরেক অংশে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে মোটরসাইকেল নেওয়ার জন্য প্রকল্প পরিচালকের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়া হয়।এ অভিযোগের সমর্থনে NRBC Bank-এর একটি RTGS ফরম উপস্থাপন করা হয়েছে। ফরমটিতে ৫,০০,০০০ টাকা স্থানান্তরের তথ্য দেখা যায়।
*রাস্তার ঢালাইয়ের আগে দুই লাখ টাকা দাবির অভিযোগ*
অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সড়ক নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯ জুলাই ২০২৬ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন সড়কের রড বাঁধাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর ঢালাইয়ের প্রস্তুতি চলছিল।
ওই দিন বিকেল ৪টা ৫১ মিনিটে কাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক জামালকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে দেখা করতে বলেন জিসান আহম্মেদ—এমন দাবি করা হয়েছে।এর কিছুক্ষণ পর বিকেল ৫টা ০৫ মিনিট থেকে ৫টা ১৫ মিনিটের মধ্যে উপাচার্যের দপ্তরের সামনে জিসান আহম্মদে এবং প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুর সহ এসে সেখানে দুই লাখ টাকা না দিলে রাস্তার ঢালাই করতে দেওয়া হবে না বলে জিসান জানান।
পরে বিকেল ৫টা ২৪ মিনিটে আবারও সতর্ক করা হয়।
ঘটনাস্থল উপাচার্যের দপ্তরের সামনে হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সময়ের CCTV ফুটেজে উপস্থিতি ও সাক্ষাতের ঘটনা রয়েছে। এ কারণে ১৯ জুলাই বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিট থেকে ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত CCTV ফুটেজ সংরক্ষণ ও পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়েছে।
*অডিও রেকর্ডেও অর্থসংক্রান্ত কথোপকথনের দাবি*
অভিযোগের সঙ্গে একাধিক অডিও রেকর্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এসব অডিওতে বিভিন্ন সময়ে অর্থ চাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো নিয়ে কথোপকথন রয়েছে।
*ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ*
১৯ই জুলাই শ্রমিকদের হুমকি দেওয়ার পর প্রায় ১৫ দিন শ্রমিকরা নিরাপত্তাহীনতায় কাজের স্থান ত্যাগ করেন।প্রতিষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি কাজের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকীকে বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জিসান আহমেদ বলেন, তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ বরাবরের মতোই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, ঠিকাদারের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করার পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কাছেও ঠিকাদারের মাধ্যমে মানহানির অভিযোগ দিয়েছেন।জিসান বলেন, “কে আমার নাম ভাঙিয়ে কার কাছ থেকে টাকা নেয়, এসব তো আমার দেখার বিষয় না।
কর্পোরেট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বত্বাধিকারী বলেন, “আমি ছাত্রদলের জিসান আহমেদ কর্তৃক ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির বিষয়ে মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের দপ্তরে একটি অভিযোগ করেছি, এখনো অভিযোগের বিষয় নিয়ে কোনো অগ্রগতি জানতে পারিনি। রাস্তার কাজের বিষয়ে আমি যথেষ্ট আন্তরিক ছিলাম শুরু থেকেই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে প্রকল্প পরিচালক বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও আমাদের চলতি বিলটি দেননি। এর মধ্যে উপাচার্য মহোদয়কে আমাদের আর্থিক সংকটাপন্ন অবস্থার কথা অবহিত করা হয়েছে।”
ঠিকাদারের শ্রমিক জামাল বলেন, আমরা ভীত, শুনছিলাম এখানে পাহাড়িরা টাকা খুঁজে এখন দেখতেছি ছাত্রদলের নাম দিয়ে টাকা চাচ্ছে।





