সারাদেশ

তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতা: সেলিম রেজাকে নিয়েই স্বপ্ন দেখছে কাজিপুর

ওয়াসিম সেখ,সিরাজগঞ্জ.
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক পরিচিত ও প্রতিশ্রুতিশীল নাম মোঃ সেলিম রেজা। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থেকে তিনি নিজেকে একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতা পারিবারিক সূত্রেই রাজনৈতিক আবহে বেড়ে উঠেছেন এবং সময়ের পরিক্রমায় হয়ে উঠেছেন স্থানীয় জনগণের আস্থার প্রতীক। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর) আসন থেকে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা এলাকার রাজনৈতিক আলোচনায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মোঃ সেলিম রেজার রাজনৈতিক জীবনের ভিত্তি স্থাপিত হয় তার পরিবারেই। তাঁর বাবা, মরহুম আফজাল হোসেন সরকার, ছিলেন কাজিপুর থানা বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি। শুধু তাই নয়, তিনি তৎকালীন সিরাজগঞ্জ মহকুমা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। বাবার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা শৈশব থেকেই সেলিম রেজাকে প্রভাবিত করে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচির প্রতি গভীর অনুরাগ এবং বাবার আদর্শিক পথচলা তাঁকে ছাত্রজীবনেই সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করে।
কলেজ জীবনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে সেলিম রেজার সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। ধাপে ধাপে তিনি নেতৃত্বগুণ এবং সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দেন। পরবর্তীতে তিনি কাজিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচিত হয় ২০২০ সালের সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচনে। দলের এক ক্রান্তিকালে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যদিও নির্বাচনের ফলাফল তার পক্ষে আসেনি, তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তার সাহসী অংশগ্রহণ কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সঞ্চার করে।
সেলিম রেজার রাজনৈতিক পথচলা কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁকে বহুবার হামলা, মামলা এবং নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। বিশেষ করে, ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা তার এবং তার পরিবারের জন্য এক ভয়াবহ অধ্যায় নিয়ে আসে। সেই সময়ের এক রাজনৈতিক সংঘর্ষের মামলায় তার পরিবারের ১৫ জন সদস্য সাজাপ্রাপ্ত হন এবং আজও এক মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানা যায়। নিজ বাড়িতে হামলা এবং পরিবারের উপর নেমে আসা নির্যাতন সত্ত্বেও তিনি রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি সমাজসেবা এবং এলাকার শিক্ষান্নোয়নেও মোঃ সেলিম রেজা এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর পরিবারের হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই অঞ্চলের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ আফজাল হোসেন মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ। ১৯৯৪ সালে তাঁর মায়ের উদ্যোগে এবং ভাই-বোনদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি কাজিপুরের শিক্ষা বিস্তারে এক অনবদ্য ভূমিকা রেখে চলেছে।
এছাড়াও, চালিতাডাঙ্গা কাওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা এবং শিশুকল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করে স্থানীয় শিশুদের মেধা বিকাশে উদ্যোগী হওয়া তার সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচায়ক। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয়-সামাজিক কর্মকাণ্ডে জমি দান এবং দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি কাজিপুরের তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়নের এক অন্যতম কারিগর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোঃ সেলিম রেজা কাজিপুর-সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে এমপি পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার এই ইচ্ছাকে স্থানীয় জনসাধারণ অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছে।
চালিতাডাঙ্গার প্রবীণ শিক্ষক মতিউর রহমানের কথায়, সেলিম রেজা শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি এই এলাকার শিক্ষার উন্নয়নের এক অন্যতম স্থপতি। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি যদি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, তবে কাজিপুরের উন্নয়নে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে।
স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, দলের এবং এলাকার মানুষের যেকোনো সংকট ও দুঃসময়ে আমরা সেলিম রেজাকে পাশে পেয়েছি। তিনি এমপি হলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কথা সংসদে পৌঁছানোর একজন যোগ্য প্রতিনিধি আমরা পাব।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন, দলের দুঃসময়ে অবিচল নেতৃত্ব, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সাথে নিবিড় সম্পর্ক এবং ত্যাগের মহিমাই মোঃ সেলিম রেজাকে আগামী নির্বাচনে বিএনপির জন্য একজন শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রেখেছে। তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন এবং সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান তাকে কাজিপুরের রাজনীতিতে এক নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। জনগণের প্রত্যাশা, তার হাত ধরেই কাজিপুর এগিয়ে যাবে এক নতুন উন্নয়নের পথে।

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,