গাইবান্ধার ৫ টি সংসদীয় আসনে ৪৫ প্রার্থীর বিস্তারিত
আশরাফুল ইসলাম গাইবান্ধা ::
৩৬ জুলাই গণঅভ্যাত্থানের পরবর্তী অন্তবর্তী সরকারের অধীনে দেশের বহুল আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ৪৫ জন প্রার্থী নিজ নিজ মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হয়েছেন ৩৬ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ৯ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। পাঁচটি আসনে মোট ৬০ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত ১৫ জন তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেনি। জুলাই অভ্যার্থনের পক্ষের অন্যতম রাজনৈতিক দল এনসিপি’র গাইবান্ধার ৫ টি সংসদীয় আসনে দলীয় কোন প্রার্থী না থাকলেও এনসিপি’র গাইবান্ধা জেলা সভাপতি এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে গাইবান্ধা ৩ (পলাশবাড়ী সাদুল্লাপুর) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রার্থীরা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও স্ব স্ব উপজেলার সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৃথকভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
গণমাধ্যমে এ বিষয়টি নিশ্চিত করে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, পাঁচটি আসনে ৬০ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও শেষ দিনে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৪৫ জন মনোনয়ন দাখিল করেছেন। বাকি ১৫ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেনি।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, গাইবান্ধা-১ আসনে ১৩ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন ১০ জন, গাইবান্ধা-২ আসনে ৯ জনের মধ্যে জমা দিয়েছেন ৮ জন, গাইবান্ধা-৩ আসনে ১০ জন, গাইবান্ধা-৪ আসনে ১০ জন ফরম সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন ৬ জন এবং গাইবান্ধা-৫ আসনে ১৮ জন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন ১১ জন প্রার্থী।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা আরো বলেন, সব প্রার্থীকে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ রাখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
জেলার আসন ভিত্তিক মনোনয়ন দাখিল করেছেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন দাখিলকারী ১০ জনের মধ্যে ৮ জন দলীয় ও ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। দলীয় প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. খন্দকার জিয়াউল হক জিয়া, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও মাহফুজুল হক সরকার, জামায়াতের মাজেদুর রহমান, বাসদের পরমানন্দ দাস, ইসলামী আন্দোলনের রমযান আলী, এলডিপির শরিফুল ইসলাম এবং আমজনতার কওছর আজম হান্নু। স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন— মোছা. ছালমা আক্তার ও মোস্তফা মহসিন।
গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে ৮ জন দলীয় প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. আনিসুজ্জামান খান বাবু, জাতীয় পার্টির আব্দুর রশিদ সরকার, জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল করিম, কমিউনিস্ট পার্টির মিহির কুমার ঘোষ, বাসদের আহসানুল হক, খেলাফত মজলিসের এ কে এম গোলাম আযম, জনতার দলের শাহেদুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ।
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর–পলাশবাড়ী) আসনে মোট ১০ জনের মধ্যে ৮ জন দলীয় ও ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। দলীয় প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, জামায়াতের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম লেবু, জাতীয় পার্টির মইনুর রাব্বি চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের সুরুজ মিয়া, সিপিবির আব্দুল্লাহ আদিল, ইনসানিয়াত বিপ্লবি বাংলাদেশের মোছাদ্দিকুর, জনতার দলের মনজুরুল হক এবং ইসলামী আন্দোলনের এটিএম আওলাদ হোসাইন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি ও আজিজার রহমান।
গাইবান্ধা-৪ আসনে ৫ জন দলীয় ও ১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। দলীয় প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, জামায়াতের ডা. আব্দুর রহিম সরকার, জাতীয় পার্টির কাজী মো. মশিউর রহমান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আতিয়ারুল রহমান এবং ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম তুহিন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন আব্দুর রউফ আকন্দ।
গাইবান্ধা-৫ আসনে ১১ জন মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এর মধ্যে ৭ জন দলীয় ও ৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। দলীয় প্রার্থীরা হলেন – বিএনপির ফারুক আলম সরকার, জামায়াতের আব্দুল ওয়ারেছ, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, ইসলামী আন্দোলনের আজিজুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক মার্কসবাদী দলের রাহেলা খাতুন, কমিউনিস্ট পার্টির শ্রী নির্মল রবিদাস এবং গণঅধিকার পরিষদের সামিউল ইসলাম। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন— নাহিদুজ্জামান নিশাদ, এএইচএম গোলাম শহীদ রঞ্জু, সুজাউদৌলা সাজু ও হাসান মেহেদী বিদ্যুৎ।
উল্লেখ্য, গাইবান্ধা জেলার সাতটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৮২ হাজার ৪০১ জন, নারী ভোটার ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩৬ জন। জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ৬৭৫টি এবং ভোটকক্ষ রয়েছে ৪ হাজার ১০১টি।




