দেবীগঞ্জ ভূমি অফিসে খারিজ করে দেয়ার নাম করে নেয়া হয় টাকা
একেএম বজলুর রহমান, পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ভূমি অফিসে চলছে অনৈতিক কর্মকান্ড। দেবীগঞ্জে সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। একাধিক অফিসের দায়িত্বে থাকায় সময়মত ভূমি অফিস তদারকি না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নামজারির আবেদন করা হয়েছে ১০৪৪টি। আবেদন নিস্পত্তি করা হয়েছে ৭৩৯টি। গত ডিসেম্বর মাসে আবেদন করা হয়েছে ৩১৯টি। নিস্পত্তি হয়েছে ৩০৫টি। সেসব সিরিয়ালের আবেদন মন্জুর হয়েছে সেসব হয়েছে টাকার বিনিময়ে। যারা টাকা দিতে পারেনি তাদের কাজ হয়নি।
প্রায় ২ হাজার আবেদন করা হলেও পূর্বের ১৩শ, ১৪শ, ১৫শ সিরিয়ালের অনেক ফাইল মন্জুর হয়নি বা শুনানি গ্রহন করা হয়নি। যেকোন কাগজে বড় ধরনের সমস্যা থাকলেও সেসব কাজ হয়ে যায় টাকার বিনিময়ে। খারিজের আগে করেন শুনানি। কাগজপত্র দেখভাল ও শুনানি করার ক্ষমতা না থাকলেও অফিসের কর্মচারীরা নিজে নিজেরাই করেন শুনানী।
শুধুমাত্র সহকারী কমিশনার (ভূমি) খারিজ করতে পারবেন। কিন্ত তা ছাড়াও কানুনগোকে দিয়ে শুনানী করার নিয়ম থাকলেও শুনানি করছেন কর্মচারীরা। কানুনগো হিসেবে প্রতিবেদন দিচ্ছেন নাজির সুমন আলী। খারিজের জন্য করা আবেদনের ফাইল নিয়ে ভুক্তভোগীদের সাথে করেন দেনদরবার। পরের ফাইল পাশ হয় আগে আবার আগের ফাইল পড়ে থাকে টেবিলে। আর এসব হয় টাকার বিনিময়ে।
সায়রাত সহকারী কায়েস ইসলামের মাধ্যমেই জমা হয় আবেদন এবং তিনিই করেন খারিজের সিরিয়াল।
খারিজের সিরিয়াল ঠিক না রেখে পরের সিরিয়াল আগে আর আগের সিরিয়াল পরে এমন ভাবে করে দিচ্ছে খারিজ। দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে মাসে গড়ে ৩ থেকে ৪ শ আবেদন জমা হয়। এখানকার বেশির ভাগই জমির খারিজের ফাইল পার করে দিচ্ছে টাকার বিনিময়ে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের প্রধান সহকারী দেলোয়ার হোসেন, নাজির পদে সুমন ইসলাম, সায়রাত সহকারী কায়েস আহমেদ, অফিস সহায়ক তাইবুর ইসলাম মিলে যোগসাজশ করে করেন অফিসের কাজ। তারাই নিয়ন্ত্রণ করছেন দেবীগঞ্জ উপজেলার ভূমি অফিস।
দেবীগঞ্জ বাজারের গফুর বাদশা নামের এক ব্যবসায়ী জানান, ২ বছর আগে নাজির সুমন আলীকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি দোকানের চান্দিনা ভিটার লাইসেন্সের জন্য। এখন পর্যন্ত আমার দোকানের লাইসেন্স করে দেননি। আজ না কাল বলে শুধু সময় পার করতেছে।
তবে এ বিষয়ে নাজির সুমন আলী জানান, গফুর বাদশার নিকট থেকে আমি কেন টাকা নিবো। তার যদি কোন কাগজে সমস্যা থাকে সেটা নিয়ে আসতে বলছি। কাগজে সমস্যা থাকলে আমাকে বললে আমি সমাধান করে দিতাম। কিন্তু সে পরে আর কাগজ নিয়ে আসেনি।
নাজির পদে সুমন ইসলাম দেবীগঞ্জ ভূমি অফিসে আছেন প্রায় ৪ বছর থেকে। তিনি আসার দীর্ঘদিন হওয়ার কারনে তার পরিচিতিও রয়েছে বেশি। সিন্ডিকেটের সদস্যরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দালাল নিযুক্ত করেছেন। তাদের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।
নাম প্রকাশ না কনার শর্তে এক ভুক্তভোগী গণমাধ্যম কর্মীর কাছে বলেন, সুন্দরদীঘি ইউনিয়নের ভূমি অফিসের অফিস সহায়কের মাধ্যমে উপজেলা ভূমি অফিসের প্রধান সহকারি দেলোয়ার হোসেন ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন।
সম্প্রতি গণমাধ্যম কর্মীর কাছে এক ভুক্তভোগী ও ভূমি অফিসের প্রধান সহকারি দেলোয়ার হোসেনের ৫ হাজার টাকা ঘুষের বিষয়ে কাজ করে দেয়ার কথাবার্তা চুড়ান্ত হওয়ার ভিডিও এসেছে। সেখানে এক তহসিলদারের কথা শুনা গেছে।
আরেক ভুক্তভোগী জানান, অফিসের লোক খারিজের কাগজ আটকিয়ে রাখে। তাদের চাহিদা মত টাকা দিলে তাড়াতাড়ি কাজ হয়ে যায়।
সম্প্রতি গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে খারিজের আবেদনের একটি তালিকা এসেছে। সেখানে দেখা গেছে ২০ টি আবেদন করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায় পূর্বের আবেদন করা খারিজ মন্জুর হয়নি অথচ পরে আবেদন করা খারিজ মন্জুর হয়েছে। এসব কিছু চলে টাকার বিনিময়ে।
নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায়, যারা টাকা দিতে পারছে না তাদের আবেদন মাসের পর মাস পড়ে থাকলেও শুনানি করা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের প্রধান সহকারি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ইতিপূর্বে অফিসে কি হয়েছে সেটা আমি জানিনা। আমি নতুন অফিসে জয়েন্ট করেছি।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন,
টাকা দেয়ার যদি কোন প্রমান থাকে তাহলে আমাকে প্রমান দিলে আমি সেটার ব্যবস্থা নিবো। যে কেউ কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ দিতেই পারে তবে সেটার প্রমান লাগবে।





