গণ কবরস্থানের জমি দখল ও সাইনবোর্ড ভাঙচুরের অভিযোগ
তরিকুল মোল্লা, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পর্তুগাল প্রবাসী শরিফুল ইসলাম শাওনের দানকৃত গণ কবরস্থানের জমি দখলের চেষ্টা’সহ এক বিঘা ফসলি জমির ধান জোরপূর্বক কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দখলের উদ্দেশ্যে কবরস্থানের জন্য দান করা ২৬ শতাংশ জমিতে লাগানো সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের পশ্চিম গুলিশাখালী গ্রামের পর্তুগাল প্রবাসী শরিফুল ইসলাম শাওন এলাকার মানুষের দাফনের সুবিধার জন্য নিজ মালিকানাধীন ২৬ শতাংশ জমি গণ কবরস্থানের জন্য দান করেন। ওই জমিতে কবরস্থান উল্লেখ করে সাইনবোর্ডও টানানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সৌদি প্রবাসী মালেক হাওলাদারের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী মহল কমিশনে লোক লাগিয়ে ওই সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলে এবং জমিটি দখলের চেষ্টা চালায়।
একই বিরোধের জেরে শাহানুর রহমান শাহিনের বর্গাচাষি মিজানুর রহমান বেপারীর চাষ করা ৩৩ শতাংশ জমির আমন ধান জোরপূর্বক কেটে নেওয়ার অভিযোগও উঠে। এর প্রতিবাদ করায় মিজানুর রহমান ও তার ছেলে ফরিদ বেপারীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাভোগ করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ধান কাটার মৌসুম এলেই ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে জমিতে হানা, ভয়ভীতি ও মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে তারা নিজ গ্রামে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ ঘটনায় প্রবাসীর পিতা ও বাগেরহাট জেলা সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপক শাহানুর রহমান শাহিন বাদি হয়ে খোকা মুন্সী’সহ আটজনের বিরুদ্ধে বাগেরহাট বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
শাহানুর রহমান শাহিন বলেন, গণ কবরস্থানের জন্য দান করা জমিও তারা ছাড়ছে না। সাইনবোর্ড ভেঙে দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। জমি ও ফসল হারিয়ে পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছি। প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মালেক হাওলাদার বলেন, কবরস্থানের জমি দখল বা সাইনবোর্ড ভাঙার অভিযোগ সঠিক নয়। জমি নিয়ে বিরোধ আছে, তবে কাউকে হয়রানি করা হয়নি।
এ বিষয়ে মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মো: রাকিবুল হাসান বলেন, আমরা অভিযোগ পেলে আইগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।




