সারাদেশ

শ্রদ্ধা আছে, প্রতীক নেই—পাঁচ বছর ধরে অপেক্ষায় একটি বিদ্যালয়

জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা-র ইকরচালী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইকরচালী উচ্চ বিদ্যালয়-এ স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে মহান শহীদ দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে পতাকা স্ট্যান্ডেই ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছে। বিষয়টি স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
জানা যায়, রংপুর জেলার রংপুর জেলা-র অন্যতম পুরনো ও সুনামধন্য এই বিদ্যালয়টিতে একসময় একটি স্থায়ী শহীদ মিনার ছিল। তবে পুকুরপাড় সংলগ্ন স্থানে নির্মাণ করায় প্রাকৃতিক ক্ষয় ও মাটির ধসের কারণে প্রায় পাঁচ বছর আগে শহীদ মিনারটি ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর আর নতুন করে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত পতাকা স্ট্যান্ডে অস্থায়ীভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন। কিন্তু স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীই হতাশা প্রকাশ করেছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, জাতীয় ইতিহাস ও ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করার জন্য শহীদ মিনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় তারা যথাযথ পরিবেশে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না। এতে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও কমে যাচ্ছে।
স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, উপজেলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কয়েকবার স্বীকৃতি পাওয়া এই বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী সংখ্যা তুলনামূলক বেশি এবং এর ঐতিহ্যও দীর্ঘদিনের। তাই দ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ মোঃ মোনওয়ারুল ইসলাম সাবু বলেন,
“২০২০ সালে বিদ্যালয়ের স্থায়ী শহীদ মিনারটি ভেঙে যায়। পরবর্তীতে নতুন করে নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও বিদ্যালয়ের ফান্ডে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় কাজটি আর করা সম্ভব হয়নি। সরকারি বা স্থানীয়ভাবে সহযোগিতা পেলে দ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে।”
অন্যদিকে তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন জানান,
“বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আশা, ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণের অন্যতম প্রতীক স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে জাতীয় দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং নতুন প্রজন্ম ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে আরও গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,