মাদারীপুরে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ
সাব্বির হোসাইন আজিজ, মাদারীপুরঃ মাদারীপুরের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। তবে এনিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ। বুধবার মধ্যে রাতে শহরের বিসিক শিল্পী নগরী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর জেলা হাসপাতাল-এর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
নিহত গৃহবধূর মিম আক্তার কালকিনি উপজেলার উত্তর কানাইপুর গ্রামের মৃত নান্নু হাওলাদারের মেয়ে। আটককৃত যুবক কে এম আব্দুল্লাহ নোমান ওরফে রিয়াদ খান সদর উপজেলার কালাইমারা গ্রামের আব্দুস সাত্তার খানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক বছর আগে গোপনে বিয়ে করেন রিয়াদ খান ও মিম আক্তার। এর আগে মিমের আর একটি বিয়ে হয়েছিল সেই ঘরে ৫ বছরের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। সকল কিছু জেনেও রিয়াদ মিমকে বিয়ে করেন। বিয়ে করার পরে মাদারীপুর বিসিক শিল্পী নগরী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় উঠেন। কয়েক মাস যেতে না যেতেই প্রতিনিয়তই মিমের ঘরের সন্তানকে নিয়ে রিয়াদের সাথে ঝগড়া লেগেই থাকতো। সেই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে স্বামী স্ত্রীর মাঝে বাকবিতন্ডায় হয়। এরপর থেকেই কিভাবে মিম মারা গেল সেই রহস্যই রয়ে গেল। তবে আনুমানিক রাত ২টার দিকে স্বামী রিয়াদ তার স্ত্রী অসুস্থ হয়েছে বলে শশুরবাড়ির লোকজনকে খবর দেয়। এসে তার দেখতে পায় মিমের লাশ পরে আছে। পরে খবর পেয়ে ঘটনা স্থানে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পূরণ করেছে। তবে এ ঘটনার পরপরই স্বামীকে আটক করা হয়।
নিহত মিমের চাচাতো ভাই সাব্বির আবদুল্লাহ রিফাত বলেন, আমার বোনকে রিয়াদ গোপনে বিয়ে করেছে। এবার কে না জানিয়ে। কিন্তু মিমের একটি মেয়ে রয়েছে সে মেয়ে নিয়েই রিয়াদের সাথে প্রতিনিয়ত ঝগড়া হতো এক পর্যায় মিমকে মেরে ফেলে আমরা রিয়াদের বিচার চাই।
নিহত মিমের মা রোকসানা বেগম অভিযোগ করে বলেন, মিমের একটি মেয়ে রয়েছে সে মেয়ে নিয়েই রিয়াদের সাথে প্রতিনিয়ত ঝগড়া হতো।
আমার মেয়েকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে রিয়াদ হত্যা করেছে। আমাকে এ ঘটনা নিয়ে ঝামেলা করতে নিষেধ করেছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার কঠিন বিচার চাই।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ আবুল কালাম আজাদ, প্রথমে ঘটনাটি অন্যদিকে নিতে পারিবারিক কলহে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে এটি আমাদের প্রাথমিক ধারণা একথা বলেন। তবে গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হলে গণমাধ্যম কর্মিদের দৌড়ঝাঁপে কয়েক ঘন্টা পরেই বক্তব্য বদল করে সদর থানার ওসি বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় রিয়াদকে আটক করা হয়েছে। মামলা চলমান রয়েছে। আটককৃত যুবককে আদালতে পাঠানো হবে।





