গ্রামবাংলায় স্বাস্থ্যসেবার হাতছানি—তারাগঞ্জে ফ্রি ক্যাম্প শুরু
জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ
দরিদ্র, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে রংপুরের তারাগঞ্জে একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন করা হয়েছে। মানবিক এই উদ্যোগকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে তারাগঞ্জ ও/এ কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমীর এ টি এম আজহারুল ইসলাম। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, এলাকার দরিদ্র ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত মানুষের কথা বিবেচনা করে নিয়মিতভাবে প্রতি শুক্রবার এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হবে। অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরামর্শ প্রদান এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন,
“মানুষ মানুষের জন্য—এই বিশ্বাস থেকেই আমাদের কাজ করা উচিত। সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারাটাই সবচেয়ে বড় মানবিক দায়িত্ব। আমি ইতিপূর্বে বদরগঞ্জ এলাকায় একটি ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প চালু করেছি। আজ তারাগঞ্জবাসীর জন্যও এই উদ্যোগ নিতে পেরে আমি আনন্দিত। ভবিষ্যতেও এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসাসেবা মানুষের মৌলিক অধিকারের একটি অংশ। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মহল এগিয়ে এলে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সংকট অনেকটাই লাঘব হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত এলাকাবাসী এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিয়মিতভাবে এমন ফ্রি চিকিৎসা কার্যক্রম চালু থাকলে গ্রামের অসংখ্য অসহায় মানুষ উপকৃত হবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সংসদ সদস্য তারাগঞ্জ উপজেলার অনন্তপুর গ্রামে নিখোঁজ হয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার ইলেকট্রিশিয়ান মনজুরুল ইসলামের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এ সময় তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য তিনি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সহযোগিতা করবেন।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।





