ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে শিশু ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যা
মোঃ হামিদুজ্জামান জলিল স্টাফ রিপোর্ট।
ঝিনাইদহের তাবাসসুম এখন চিরশান্তিতে কবরে, আর তার ঘাতক ‘নরপশু’ আবু তাহের (৪৫) এখন পুলিশের খাঁচায়। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্তকে আজ শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে রক্তমাখা আলামত।
নিহত তাবাসসুম মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা এলাকার নজরুল ইসলামের কলিজার টুকরো ছিল। জীবিকার তাগিদে পরিবারটি কালীগঞ্জের বারবাজারের বাদেডিহি গ্রামে ভাড়া থাকত। গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাড়ির আঙিনায় খেলার সময় হঠাৎ নিখোঁজ হয় সে। স্বজনরা হন্যে হয়ে খুঁজলেও তার সন্ধান পাননি। গ্রামজুড়ে চলে মাইকিং, কিন্তু কেউ জানত না পাশের বাড়ির অন্ধকারেই ওত পেতে আছে এক হায়না।
নিখোঁজের একদিন পর বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বাদুরগাছা গ্রামের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে মেলে সেই বিভীষিকা। হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা, বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শিশুটির নিথর দেহ। ঘাতক আবু তাহের শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আস্তাকুঁড়ে ফেলে দেয়। শরীরের আঘাতের চিহ্নগুলো বলে দিচ্ছিল মৃত্যুর আগে কতটা যন্ত্রণায় ছটফট করেছিল ছোট্ট এই প্রাণটি।
হত্যাকাণ্ডের পর এলাকা ছেড়ে কুষ্টিয়ায় আত্মগোপন করেছিল ঘাতক আবু তাহের। তবে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের চৌকস টিমের হাত থেকে বাঁচতে পারেনি সে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আজ সকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে বারবাজারে নিয়ে আসা হলে পুলিশি পাহারার মধ্যেই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে হাজারো মানুষ। খুনি তাহেরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি ও বস্তাসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, “আমরা শুরু থেকেই ছায়াতদন্ত চালিয়েছি। ঘাতক তাহের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের জঘন্য অপরাধ স্বীকার করেছে। তাকে নিয়ে অভিযানে খুনের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।”
আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে কালীগঞ্জ শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে আসেন। বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধনে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে রাজপথ। উত্তেজিত জনতা ঘাতক আবু তাহেরের দ্রুত বিচার ও প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি জানান। মিছিলে অংশ নেওয়া এক প্রতিবেশী অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, “আমরা কি এমন সমাজ চেয়েছিলাম যেখানে ৪ বছরের শিশুও নিরাপদ নয়? আমরা ওই পশুর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”





