সারাদেশ

বাম্পার ফলনেও হাসি নেই — দামে ধস, চাষির কপালে দুঃশ্চিন্তা

জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় আলুর বাম্পার ফলন হলেও বাজারদরের ধসের কারণে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেনি। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ৯ টাকায়। অথচ উৎপাদন খরচ পড়ছে গড়ে ১৪ থেকে ১৭ টাকা। এতে মৌসুমের শুরুতেই বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা।
রহিমাপুর রামপুরা গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম জানান, গত বছর আলু চাষে প্রায় এক লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হলে চাষাবাদ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, “শ্রমিক, সার, কীটনাশকসহ সব মিলিয়ে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়ে ১৪ থেকে ১৬ টাকা। কিন্তু বাজারে সেই আলু ৮-৯ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।”
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ৪ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করে উৎপাদন হয়েছিল ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৫ মেট্রিক টন। তবে উপজেলার তিনটি হিমাগারের মোট ধারণক্ষমতা মাত্র ১৬ হাজার টন। ফলে বিপুল পরিমাণ আলু সংরক্ষণের বাইরে থেকে যায়।
সংরক্ষণের অভাবে অনেক কৃষক বাড়ির উঠান কিংবা অস্থায়ী গুদামে আলু মজুত রাখেন। এতে একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকে না।
চলতি মৌসুমে আলুর আবাদ কমে ৩ হাজার ৪৬৩ হেক্টরে নেমে এলেও ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। তবে উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে বাজারদর কম থাকায় সেই ফলনই এখন কৃষকের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আলমপুর ইউনিয়নের পীরপাড়া গ্রামের কৃষক মিলন মিয়া বলেন, “এভাবে লোকসান খেতে খেতে চলতে থাকলে আলুর আবাদ ছেড়ে দিতে হবে। এত কষ্ট করে চাষ করেও যদি ন্যায্য দাম না পাই, তাহলে বাঁচব কীভাবে?”
কুর্শা কাজীপাড়া গ্রামের চাষি এমদাদুল ইসলামও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বারবার লোকসান হলে আলু চাষ থেকে সরে দাঁড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীবা রানী রায় বলেন, উৎপাদন ভালো হলেও বাজারদর ও সংরক্ষণ সংকটের কারণে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি জানান, হিমাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানো গেলে সংরক্ষণ সহজ হবে। পাশাপাশি এলাকায় আলু প্রক্রিয়াজাত শিল্প—যেমন আলুর চিপস বা আলুভিত্তিক খাদ্যপণ্য তৈরির কারখানা—গড়ে উঠলে কৃষক ন্যায্য মূল্য পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে আলুচাষিরা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ, সরাসরি সরকারি ক্রয় কার্যক্রম এবং হিমাগারের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রতিবছরই একই সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে এবং আলু চাষে আগ্রহ হারাবেন অনেক কৃষক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,