পলাশবাড়ীতে জমির অধি গ্রহনের অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা : প্রতারকের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগের তদন্ত
বায়েজীদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) :
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বিক্রিত জমির অধিক গ্রহনের অর্থ নিজ নামে করার অভিযোগ উঠেছে মুনসুর আলী নামে এক প্রতারকের বিরুদ্ধে। এঘটনায় ভুক্তভোগী অধিকগ্রহন কৃত জমি মালিক রেখা বেগম গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক বরাবরে ১ মার্চ রবিবার একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ অভিযোগের ভিক্তিতে ৩ মার্চ মঙ্গলবার সরেজমিনের তদন্ত করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্ভেয়ার।
এ অভিযোগে জানা যায়,এই যে, নিম্ন তপশিল বর্ণিত জমি যা উপরোক্ত এল.এ কেসের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা হইয়াছে। উক্ত জোত জমি-জমা অধিগ্রহণ করিয়া বর্তমান দখলদারগণের নামে গত ৩১/০৭/২০২০ খ্রি তাবিখে ০৮ ধারার নোটিশ প্রদান করিয়াছেন। অধিগ্রহণকৃত তফশিল বর্ণিত জমি আমি মোছাঃ রেখা বেগম, পিতা-মৃত ইয়াকুর আলী, সাং-পশ্চিম গোপালপুর, ডাকঘরঃ বেংগুলিয়া, থানা-পলাশবাড়ী, জেলা- গাইবান্ধা জমি মোঃ মুনছুর আলী, পিতা-মোফাজ্জল হোসেন সাং-নুনিয়াগাড়ী, থানা-পলাশবাড়ী, জেলা-গাইবান্ধাগং এব নিকট হইতে ক্রয় সূত্রে মালিক। যাহার দলিল নং-২৪৫৩, তারিখ-১৬-০৪-২০১৫ ইং। অধিগ্রহণকৃত জমির দলিল পত্রাদি, মাজনা, খারিজ খতিয়ান আমায় নামে পুস্তুত আছে। কিন্তু জেলা প্রশাসক কার্যালয় হইতে ভুলবশত পূর্বের মালিক মোঃ মুনছুর আলী, পিতা-মোফাজ্জল হোসেন সাং-মুনিয়াগাড়ী, থানা-পলাশবাড়ী, জেলা-গাইবান্ধাগং এর এক নামে ৮ ধারা নোটিশ প্রদান করেন। অধিগ্রহণকৃত জমি আমি ক্রয় সূত্রে মালিক হওয়া স্বত্বেও আমার নাম ১৮ বানা নোটিশে বর্তমান দখলদার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যেহেতু প্রকৃত পক্ষে উক্ত জমি ও জমির উপরিস্থ অবকাঠামো আমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। সেহেতু জমিও অবধাঠামোয় অধিগ্রহনের হকদার হিসাবে আমার নাম যেস্তভুক্ত না হওয়ায় আমি বর্তমান দখলদারদের বিরুদে ৮৩১ দাগের জমির টাকা উত্তোলন না করার জন্য আপত্তি জানাচ্ছি। অতএব, বিধায় প্রার্থনা এই যে, তফশিল বর্ণিত জমির সকল কাগজপত্র যাচাই ও সরেজমিনে তদন্তপূর্বক অধিগ্রহণকৃত ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানে আপনার মর্জি হয়।
জমির তপশিলঃ জেলাঃ গাইবান্ধা, থানা-পলাশবাড়ী, মৌজা-নুনিয়াগাড়ী, জেএল নং-২৬৯, খতিয়ান নং-৬৯৪ দাগ নং-৮-৩১ জমির শ্রেণি-ভিটি ৮.৭৬ একর। অভিযোগের সাথে সংযুক্তঃ ১। দলিলের ফটোকপি। ২। ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি! ১। বিজ্ঞাতেস খরিয়ালের সাটাকপি। ৪। খাজনা ও খারিজ খতিয়ানের ফটোকপি। ৫। প্রিন্ট পর্চার ফটোকপি সিটিজেন কেয়া প্রদান করেছেন।
অভিযোগের ভিক্তিতে ৩ মার্চ পলাশবাড়ীতে উক্ত জমি সরেজমিনে পরিদর্শন ও মাপ যোগ করেন জেলা প্রশাসকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচর্ভেয়ার ও স্থানীয় সার্ভেয়ার। স্থানীয় সার্ভেয়ার মামুনুর রশিদ জানান, অভিযোগ কারির সড়কের সীমানায় একপাশে ৮.৬” ফিট ও অন্য পাশে প্রায় ১০.৬ ” ফিট জমিসহ মোট ৪০. ৬ ফিট জমি সড়কের অধিগ্রহনের অংশে পড়েছে। এ বিষয়টি আজ সরেজমিনে পরিমাপ করে পাওয়া গেলো এতে অভিযোগকারীর অভিযোগে উত্থাপিত দাবী সঠিক রয়েছে।
এদিকে পরিমাপ করে ডিসি অফিসে গেলেই প্রতিবেদন পাল্টে যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য রেজাউল করিম। তিনি জানান,বার বার পরিমাপে সঠিক পাওয়া গেলেও অজানা অদৃশ্য শক্তির বলে প্রতিবেদন পরিবর্তন করা হয়। এ সমস্যায় আমাদের পরিবার দীর্ঘদিন হলো ভুক্তভোগী। তিনি বিভাগীয় কমিশনারসহ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগকারি রেখা বেগম দাবী করেন, মুনসুর আলী দুষ্ট ও লোভী স্বভাবের মানুষ, জেনে শুনে ও বুঝে তিনি এ কান্ড ঘটিয়ে আইন লংঙ্ঘণ করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্কির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন এবং আমার জমি অধিগ্রহনের অর্থ প্রদানে সরকারের সংশ্লিষ্ট সকলের ও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি।




