সাংবাদিকতার আড়ালে ভয়ংকর প্রতারক চাঁদাবাজ তৌফিক ইফতেখার
চট্টগ্রাম ব্যুরো
হোসাইন তৌফিক ইফতিখার।স্থায়ী ঠিকানা সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম। বর্তমান ঠিকানা সানমার স্প্রিং গার্ডেন, দ্বিতীয় তলা, ৬৪ জামালখান রোড। এই ব্যক্তি দীর্ঘ দুই দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এ মহান পেশাকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে নিজেকে চাঁদাবাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। প্রথম আলো পত্রিকায় কর্মরত অবস্থায় অফিসে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় চাকরিচ্যুত হন। পরবর্তীতে সুপ্রভাব বাংলাদেশ ও বর্তমানে বিতর্কিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল চট্টগ্রাম প্রতিদিনে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে কর্মরত আছেন।
চাঁদাবাজ তৌফিক আওয়ামী লীগপন্থী রাজনৈতিক পরিবারের ঘনিষ্ঠ পরিচিত এবং সেই সূত্রেই প্রথম আলোতে চাকরির সুযোগ পান।সেখানে এক নারী সহকর্মীকে ( উপজাতি নারী) ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় প্রথম আলো থেকে চাকরি হারান। গত জুলাই বিপ্লবের পর তিনি তার অনলাইন পোর্টালে ইসকন নিয়ে উসকানিমূলক প্রায় অর্ধশতাধিক সংবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি চট্টগ্রাম নগরের জামালখান এলাকায় আওয়ামীপন্থী মনোভাবাপন্ন কট্টর সাংবাদিক এবং ধর্মভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন ইসকনের পেইড এজেন্ট হিসেবে পরিচিত। অর্থের বিনিময়ে যেকোনো কাজ করতে তার দ্বিধা নেই।
অর্থ ও নারীলিপ্সু এই ব্যক্তি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতো।তার এই অনৈতিক কাজের অংশীদার ছিলেন পরাজিত ফ্যাসিস্টের দোসর কয়েকজন সাংবাদিক। তৌফিক কেবলমাত্র প্রেসক্লাবের ওয়েবসাইটের ডোমেইন নবায়নের কথা বলে দুই লক্ষাধিক টাকা হাতিয়েছে।যেখানে বাৎসরিক এই ডোমেইন নবায়ন ফি এক থেকে দেড় হাজার টাকার বেশি নয়।স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর প্রেসক্লাবের নথিপত্র ঘেঁটে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতারক তৌফিক বিভিন্ন সময় চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি ও সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ভুয়া ও উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রকাশ করে চাঁদাবাজি করে আসছেন। প্রথমে ভীতি প্রদর্শনমূলক সংবাদ প্রকাশ করেন, পরে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তা প্রত্যাহার বা পরিবর্তন করেন তার কথিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল চট্টগ্রাম প্রতিদিন-এ। এ কাজে তিনি কয়েকটি কথিত সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করেন। তার সহযোগীরা চট্টগ্রাম শহরের সাবেক ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তিনি চাঁদাবাজির অর্থ নগদ, বিজ্ঞাপন কিংবা বিকাশ লেনদেনের মাধ্যমে গ্রহণ করেন। তার স্ত্রী ও ভাইদের নামে অন্তত ১০টির অধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যেখানে বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে। আনুমানিক লেনদেনের পরিমাণ হাজার কোটি টাকা।
চাঁদাবাজ তৌফিকের অবৈধ সম্পদের মধ্যে রয়েছে— একটি বড় লাইটার জাহাজ (ক্রয়: মার্চ ২০২৪, খুলনা থেকে), চট্টগ্রাম শহরের ভিআইপি এলাকায় দুটি ফ্ল্যাট (চন্দনপুরা ও সুগন্ধা আবাসিক), সিডিএ থেকে প্রাপ্ত দুটি প্লট (অনন্যা আবাসিক ও বাকলিয়া কল্পলোক আবাসিক), চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার মতিঝর্ণা, কক্সবাজার ও পটিয়ায় শত বিঘা জমি। এমন বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া একজন সাংবাদিকের পক্ষে একেবারেই অস্বাভাবিক এবং এটি দুর্নীতি ও অবৈধ উপার্জনের সুস্পষ্ট প্রমাণ।
যেখানে এই চট্টগ্রাম প্রতিদিন নামের কথিত গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে তৌফিকের বেতন হচ্ছে না।
অত্যন্ত ধূর্ত তৌফিক তার “Hossain Thoufique Ifthekher” নামীয় ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে একদিকে বিএনপি বিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছেন, অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে অবৈধ সুবিধা ভোগ করছেন। তার কথিত নিউজ পোর্টাল চট্টগ্রাম প্রতিদিন-এ প্রতিনিয়ত সরকারের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও প্রোপাগান্ডামূলক সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
এ বিষয়ে এনএসআই, ডিজিএফআই, সিটি এসবি প্রভৃতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবগত থাকলেও এখনো কোনো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। অথচ সারাদেশে অসংখ্য সাংবাদিক মাস শেষে বেতনের উপর নির্ভর করে সংসার চালান, সেখানে উক্ত ব্যক্তির অবৈধ টাকার পাহাড় গড়ে তোলা প্রশ্নবিদ্ধ এবং দুর্নীতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
অতএব, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ রইল।





