কুমিল্লা-চাঁদপুর রুটে সিএনজিতে রূপান্তরিত পুরোনো বাস নিয়ে উদ্বেগ, যাত্রীদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে
এইচ. এ. বাবলু
কুমিল্লা থেকে চাঁদপুর সদর পর্যন্ত চলাচলকারী বোগদাদ পরিবহনের কয়েকটি বাস নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ডিজেলচালিত কিছু পুরোনো বাসকে সিএনজিচালিত হিসেবে রূপান্তর করে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
কুমিল্লা থেকে চাঁদপুর সদর পর্যন্ত চলাচলকারী বোগদাদ পরিবহনের কয়েকটি বাস নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ডিজেলচালিত কিছু পুরোনো বাসকে সিএনজিচালিত হিসেবে রূপান্তর করে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সম্প্রতি এ রুটে অনুসন্ধান চালিয়ে যাত্রী, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় সচেতন মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েকটি বাসে জ্বালানি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পরও সেগুলো নিয়মিত যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে। যাত্রীদের দাবি, এসব বাসের যান্ত্রিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তা মান নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
নিয়মিত যাতায়াতকারী একাধিক যাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাসগুলোর নিচে স্থাপিত গ্যাস সিলিন্ডার ও পরিবর্তিত যন্ত্রাংশ দেখে তারা উদ্বিগ্ন বোধ করছেন। তাদের ভাষ্য, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বাসগুলোর প্রকৃত অবস্থা, কারিগরি সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত।
আরেক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, “ডিজেল থেকে সিএনজিতে রূপান্তরের ফলে পরিচালন ব্যয় কমে যাওয়ার কথা। সে অনুযায়ী ভাড়াও কম হওয়ার কথা থাকলেও যাত্রীদের কাছ থেকে আগের মতোই ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।”
স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিজেলচালিত যানবাহনকে সিএনজিচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তর করা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ নয়। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনুমোদন, কারিগরি পরীক্ষা এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ বাধ্যতামূলক। এসব শর্ত যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ চাঁদপুরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, “কোনো যানবাহনের জ্বালানি ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদন ও ফিটনেস সনদ থাকতে হয়। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বোগদাদ পরিবহনের কুমিল্লা আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন বলেন, “ঈদের পর আমাদের কয়েকটি বাস সিএনজিচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হয়েছে। তবে ঠিক কতটি বাস রূপান্তর করা হয়েছে, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।”
ডিজেল ও সিএনজিচালিত বাসে একই ভাড়া আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা তেলের বাসের তুলনায় কোনো অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছি না।”
এদিকে যাত্রী ও সচেতন মহল কুমিল্লা-চাঁদপুর সড়কে চলাচলকারী বাসগুলোর কারিগরি সক্ষমতা, ফিটনেস এবং জ্বালানি রূপান্তরের বৈধতা যাচাইয়ে বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের মতে, যাত্রী নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণই পারে যাত্রীদের উদ্বেগ দূর করতে।





