জ্যৈষ্ঠের গরমে সিরাজগঞ্জে তালের শাঁসের কদর, বাজারে ক্রেতাদের ভিড়
ওয়াসিম সেখ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
জ্যৈষ্ঠ মাস মানেই মধুমাস। এ সময় বাজারে আম, লিচু, কাঁঠালসহ নানা রকমের সুস্বাদু মৌসুমি ফলের সমাহার ঘটে। এসব ফলের পাশাপাশি বর্তমানে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে তালের শাঁস বা তালের আঠির কদর। প্রচণ্ড গরমে শরীরকে শীতল রাখতে সহায়তা করায় শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই ফল।
সদর উপজেলার সয়দাবাদ, কালিয়াহরিপুর ও শিয়ালকোল ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার ধারে বসে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা তালের শাঁস বিক্রি করছেন। ক্রেতাদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। অনেককে লাইনে দাঁড়িয়ে শাঁস কিনতে দেখা যায়।
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে তালগাছে কাঁচা ফল ধরার পর সেখান থেকে সংগ্রহ করা হয় তালের শাঁস। প্রতিটি তালের ভেতরে সাধারণত দুই থেকে তিনটি শাঁস থাকে। স্বাদে মিষ্টি, রসালো ও সুমিষ্ট হওয়ায় এ ফলটির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয়ভাবে কেউ একে তালের শাঁস, কেউ তালের আঠি, আবার কেউ ‘তালের চোখ’ বা ‘তালকুর’ নামেও চেনেন। খেতে সুস্বাদু হওয়ায় শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি বয়স্করাও আগ্রহ নিয়ে কিনছেন।
বুধবার (১০ জুন) বিভিন্ন বাজারে দেখা যায়, বিক্রেতারা হাঁসুয়া, দা কিংবা ছুরি দিয়ে তাল কেটে শাঁস বের করে বিক্রি করছেন। আকার ও মানভেদে প্রতি পিস তালের শাঁস ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেকেই একসঙ্গে কয়েকটি করে কিনে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।
তালের শাঁস কিনতে আসা জাকির হোসেন বলেন, ফলটি আমার খুবই পছন্দ। পরিবারের সবাই খেতে ভালোবাসে। সুযোগ পেলেই কিনে নিয়ে যাই। তবে এ বছর দাম কিছুটা বেশি। আজ ৯টি শাঁস ৯০ টাকা দিয়ে কিনেছি।
আরেক ক্রেতা বলেন, আমার মেয়ে অন্য একজনকে তালের শাঁস খেতে দেখে খাওয়ার জন্য জেদ ধরেছে। তাই কিনতে এসেছি। এসে দেখি অনেক মানুষের ভিড়।
কাঁটা ওবদা এলাকার বিক্রেতা মো. শাহাদত হোসেন জানান, প্রতিবছরই আমি তালের শাঁস বিক্রি করি। গ্রাম-গঞ্জ ঘুরে তালগাছের মালিকদের কাছ থেকে তাল কিনতে হয়। গাছে ফলের পরিমাণ দেখে ৭০০ থেকে ১ হাজার ১ শত টাকা পর্যন্ত দিয়ে তাল কিনি। শতক হিসেবে ক্রয় করা। তালগাছে ওঠা যেমন কষ্টের, তেমনি ফল নামানো ও বাজারে আনা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় হয়।
ক্রেতাদের মতে, তালের শাঁসে প্রচুর পানি থাকায় এটি শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে এবং পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। গরমের দিনে প্রাকৃতিকভাবে সতেজতা ফিরিয়ে আনতে এই ফলের জুড়ি নেই।
পুষ্টিবিদদের মতে, তালের শাঁসে রয়েছে পানি, খনিজ উপাদান ও প্রাকৃতিক শর্করা, যা গ্রীষ্মকালে শরীরের জন্য উপকারী। তবে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে সংরক্ষণ ও বিক্রির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
গ্রীষ্মের তাপমাত্রা যত বাড়ছে, ততই সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজারে বাড়ছে তালের শাঁসের কদর। মৌসুমি এই ফল এখন অনেকের কাছে জ্যৈষ্ঠের গরমে স্বস্তির অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে।





