চার কোটি পরিবারকে সরকার পর্যায়ক্রমে ফ্যামেলী কার্ড দিবে-পঞ্চগড়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ
একেএম বজলুর রহমান, পঞ্চগড়
বর্তমান তারেক রহমান সরকার চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামেলী কার্ড দিবে। ইতিমধ্যে কৃষকদেরকে কৃষক কার্ড বিতরন করা শুরু হয়েছে। আমরা ১০ হাজার কৃষককে কৃষক কার্ড দিবো প্রতিটি উপজেলায়।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় কৃষকদের কৃষি ঋন মওকুফের সনদ বিতরণ করলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা পর্যায়ক্রমে আগামী ৩ বছরে ফ্যামেলী কার্ড দিবো। সারা দেশে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামেলী কার্ড দিবো। প্রতিটি পরিবারই পাবে ফ্যামেলী কার্ড। তারা প্রতি মাসে আড়াই হাজার করে টাকা পাবে। সরকার ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপন করবেন। আমরা অক্সিজেন পাইনা। সে ঘাটতি পুরন আর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপন করা হবে। তিনি স্বাস্থ্য সেবা প্রত্যেকের দ্বার গোড়ায় পৌছে দেয়ার ঘোষনা দেন। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালটির নতুন ভবন চালুসহ পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যা বিশিষ্ট করার ঘোষনা দেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারী শপথ গ্রহণের পরে ১৮ ফেব্রুয়ারী তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকে তিনি দেশের কৃষকদের প্রতি দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেন এবং ১০ হাজার টাকা আসল ও আসলের উপর অর্জিত সুদ মওকুফ করেন। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকা কালে ৫ হাজার টাকা কৃষি ঋন মওকুফ করেছিল
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় আনুষ্ঠানিক ভাবে কৃষি ঋন নেয়া কৃষকদের মাঝে কৃষি ঋন মওকুফের সনদ প্রদান করা হয়েছে।
১৯ জুলাই রবিবার সকালে বোদা সরকারি পাইলট মডেল স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে গাছের চারা বিতরন ও কৃষি ঋণ মওকুফের সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
কৃষকদেরকে কৃষি ঋণ মওকুফের সনদপত্র অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব পঞ্চগড় -২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অন্যদের মাঝে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার আবু সাইম, বোদা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রাসেদ ইসলাম, বোদা পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক দিলরেজা ফেরদৌস চিন্ময়।
বোদা উপজেলার কৃষি ঋন মওকুফ অনুষ্ঠানে ৮ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা মওকুফ করা হয়েছে। ৫ হাজার ৮শ ৯২ জন কৃষককে কৃষি ঋন মওকুফ করা হয়। এসময় কৃষককে কৃষি ঋন মওকুফের সনদ বিতরন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বোদা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও বোদা উপজেলার কৃষি ঋণ কমিটির সভাপতি রবিউল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে খাদ্য সংকট মোকাবেলা করার লক্ষ্যে বহু মাত্রিক কৃষি উৎপাদন পদ্ধতি প্রচলন করেন। ১৯৭৮-৭৯ সালে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনিই প্রথম ব্যাংকিং ব্যাবস্থার আওতায় সল্প সুদে বিনা জামানতে কৃষি ঋণ ব্যবস্থা চালু করেন এবং ১০০ কোটি টাকার সল্প মেয়াদী কৃষি শস্য উৎপাদন তহবিল গঠন করেন।
১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৫ সালে এ খাতে ঋণের প্রচলন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায় এবং বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম প্রধান মন্ত্রী যিনি কৃষকদের বিভিন্ন খাতে নেওয়া ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খেলাপি কৃষি ঋণ সম্পূর্ন মওকুফ করেছিলেন। ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া সরকার গঠন করলে তিনি প্রতিটি বাড়ি হবে ক্ষুদ্র খামার এ বিবেচনায় বিনা জামানতে গৃহ পালিত পশু, হাঁস মুরগী, মাছ ইত্যাদি খাতে কৃষি ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া সহজ করেন।
বোদা উপজেলা পরিষদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রত্যেক কৃষকদের মাঝে গামছা ও ৫টি করে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পরে কৃষকদেরকে ভিডিও ডকুমেন্টারি দেখানো হয়।
এসময় বোদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারন সম্পাদক, পৌর বিএনপির সভাপতিসহ বোদা উপজেলার বিভিন্ন সরকারী বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে কৃষকদের নিয়ে কৃষক আনন্দ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। কৃষকদের নিয়ে বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হয়।





