সরকার ৪ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে- পঞ্চগড়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ
একেএম বজলুর রহমান, পঞ্চগড়
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ৪ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যাপক ভাবে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপন অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্ধোধন কালে এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, গাছ আমাদের অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে জীবন রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গাছের সাথে নদীও সম্পর্ক আছে। পঞ্চগড়ে করতোয়া, মহানন্দা, তালমাসহ বিভিন্ন নদী রয়েছে। এসব নদীর দুই ধারে গাছ রোপন করলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে।শুধু গাছ লাগালেই হবেনা। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনে পুরোনো গাছ কর্তনের পর নতুন চারা রোপণের ধারাবাহিকতাও বজায় রাখতে হবে। গাছ আমাদের অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে জীবন রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ স্লোগান সামনে রেখে পঞ্চগড়ে পালিত হলো বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা। পবিবেশ রক্ষা ও সবুজায়ন বাড়াতে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
২৪ জুলাই শুক্রবার সকালে জেলা শহরের সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র্যালী অনুষ্ঠিত হয়। র্যালীটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে বের হয়ে সরকারী অডিটোরিয়াম চত্বরে এসে শেষ হয়।
পরে সেখানে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয়।
জেলা প্রশাসন ও পঞ্চগড় বন বিভাগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসাঃ শুকরিয়া পারভীন বৃক্ষরোপন অভিযান ও বৃক্ষমেলায় সভাপতিত্ব করেন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার আবু সাইম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ বর্মন, জেলা বিএনপির আহবায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, দিনাজপুরের সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার সদস্য সচিব ফাহিম মাসউদ, পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আব্দুল মতিন, পঞ্চগড় বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক তানভীর ইসলাম নাহিদ, পঞ্চগড়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও দেবীগঞ্জের রেন্জার মন্জুরুল করিম। অন্যদের মধ্যে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বন বিভাগের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্ধোধনী সভায় বক্তারা বলেন, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সারা বছর বৃক্ষরোপণ এবং রোপণকৃত গাছের পরিচর্যা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু বন বিভাগের একার দায়িত্ব নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশেসহ উপযুক্ত স্থানে গাছের চারা রোপণ এবং সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যার আহ্বান জানান।
বৃক্ষমেলায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা নার্সারি মালিকদের বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ, ঔষধি গাছসহ ফুলের চারা বিক্রয়ের ৩৮ টি স্টল অংশ নেন। মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা প্রদর্শন ও বিক্রয় করা হবে। এতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন নার্সারিরা অংশ নেয়। পরে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছ বিতরন করা হয়।
আয়োজকরা বলেন, এ বৃক্ষমেলার মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন সম্পর্কে সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে।





