দশমিনায় এইচএসসি কেন্দ্র হল সুপারের বিরুদ্ধে এমসিকিউ পূরনের অভিযোগ উঠেছে
মোঃজায়েদ হোসেন
দশমিনা(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালী দশমিনা উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষায় এমসিকিউ প্রশ্নপত্র পূরনের অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্র সুপারের বিরুদ্ধে।
দশমিনা উপজেলা এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র সুপার হলেন ডাঃ ডলি আকবর মহিলা কলেজের ইসলামী ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক প্রভাষক মোঃ মহিউদ্দিন।
জানা যায় , চলমান এইচএসসি কেন্দ্র হিসাবে ডাঃ ডলি আকবর মহিলা কলেজ দায়িত্ব পান। পরীক্ষার সময় সূচি অনুসারে আজ কৃষিশিক্ষা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা। ডাঃ ডলি আকবর মহিলা কলেজে মূল কেন্দ্র হিসাবে দুই টি কক্ষে এবং সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সাব সেন্টার হিসাবে এগারো টি কক্ষে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ডাঃ ডলি আকবর মহিলা কলেজে ১ নম্বর কক্ষে ঐ কেন্দ্র সুপারের মামাতো ভাই যাহার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর-২১১৫৪৯৯৬৩২ রোল নম্বর ৪০৭২২৬ পরীক্ষা দেয়। কৃষি শিক্ষা দ্বিতীয় পত্রের এমসিকিউ (MCQ) পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ঐ কেন্দ্রের দুই কক্ষের এমসিকিউ উত্তর পত্র নিয়ে আসা হয় সাব সেন্টার সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্যাকিং করার জন্য। ঐ সময় কেন্দ্র সুপার তার মামাতো ভাই যাহার রোল নম্বর৪০৭২২৬ এর এমসিকিউ উত্তর পত্র বের করে মোবাইলের কপি করে ভরাট করেন। এ বিষয় অন্যন্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা বিষয়টি দেখতে পেয়ে কেন্দ্র সচিবকে জানালে তিনি বিষয়টি এরিয়ে গিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ঐ এমসিকিউ উত্তর পত্র বরাট করার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হলে অল্প সময়ের মাধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।
অভিযুক্ত কেন্দ্র সুপার ও প্রভাষক মহিউদ্দিন বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, আমাদের মূল কেন্দ্র ছিল ডাঃ ডলি একবার মহিলা কলেজে, হল রুম সংকট থাকায় ছাব কেন্দ্র হিসেবে দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র করা হয়। আমরা প্রতিদিনই আমাদের কলেজে পরীক্ষার শেষে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দশমিনা হাই স্কুলে নিয়ে এসে প্যাকেট করে শিক্ষা বোর্ডে পাঠাই । তবে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে সম্পূর্ণ মিথ্যা। আপন মামাত ভাই ডাঃ ডলি আকবর মহিলা কলেজে পরীক্ষা দেয় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান হয় পরীক্ষা দেয়।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রভাষক/শিক্ষ ও কর্মচারীরা জানান, সিনিয়র শিক্ষককে আবহেলা করে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ সোহরব হোসেন দূর্নীতি ও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মোঃ মহিউদ্দিন স্যারকে হল সুপার বানিয়েছেন। পরীক্ষা শুরু থেকে কলেজ থেকে এমসিকিউ পেপার আসলে এমন ঘটনা ঘটে , তবে সে পরীক্ষার হল সুপার দেইখা আমরা কিছু বলতে পারি না, আজ তাকে হাতেনাতে আমাদের কলেজের শারীরিক শিক্ষা প্রভাষক বেলাল ভাই ধরে মোবাইলে পেপার নিয়ে গেছে। পরে ঘটনা জানা জানি হলে আমাদের কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ স্যার বিষয়টি ধামাচাপা দেয়। এরই মধ্যে ওই ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কে দিয়েছে আমরা জানিনা। সত্য কখনো চাপা থাকে না তা আজকে প্রকাশ পেয়েছে।
এ বিষয়ে ডাঃ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব মোঃ সোহরব হোসেন জানান, আজকে পরীক্ষা ছিল তবে তাদের রুম ও আমার রুম আলাদা থাকায় তেমন কিছু জানি না, তবে যেহেতু তার নামে একটি অভিযোগ উঠেছে তাকে আমি কেন্দ্র সুপার থেকে বহিষ্কার করব। আপনাদের কাছে একটি রিকোয়েস্ট আপনারা মিডিয়া এটা প্রকাশ করিয়েন না। তাহলে আমাদের কলেজের ভাব মূর্তি নষ্ট করা হবে।
বিষয়ে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ডের চেয়ারময়ান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয় এই শুনলাম। পীক্ষায় অনিয়ম দূর্নীতির কোন আশ্রয় নেই। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পরীক্ষার দায়িত্বরত সচিবের সাথে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হব।





