সারাদেশ

শাহরাস্তি থানায় পাঁচ মাসে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে মাদক মামলা, জনমনে উদ্বেগ

এইচ এ বাবলু
চাঁদপুরের শাহরাস্তি মডেল থানায় চলতি বছরের গত পাঁচ মাসে মাদক সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিনিয়ত মাদক উদ্ধার, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের আটকের ঘটনায় থানার অপরাধচিত্র নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত ২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শাহরাস্তি মডেল থানার তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে মাদক সংক্রান্ত মোট ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ১৮৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ২,৫৬২ পিস ইয়াবা এবং ১২ কেজি ৬৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
থানার মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ১৭টি মামলার মধ্যে ১০টি ছিল মাদক মামলা। এতে ১৮ জন গ্রেপ্তার হন। মার্চে মোট মামলা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০টি, যার মধ্যে ২০টি ছিল মাদক মামলা এবং গ্রেপ্তার হন ৪৬ জন।
এপ্রিল মাসে মোট ৩২টি মামলার মধ্যে ১৭টি ছিল মাদক মামলা; গ্রেপ্তার করা হয় ৩০ জনকে। মে মাসে মোট মামলা হয় ৪৪টি, যার মধ্যে ২৪টি মাদক মামলা এবং গ্রেপ্তার হন ৩৪ জন। জুন মাসে মামলা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮টিতে; এর মধ্যে ২৫টি ছিল মাদক মামলা এবং গ্রেপ্তার করা হয় ৪৩ জনকে।
সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে জুলাই মাসে। ওই মাসে শাহরাস্তি থানায় মোট ৫০টি মামলা দায়ের হয়, যার মধ্যে ৩২টি ছিল মাদক সংক্রান্ত। স্থানীয়দের দাবি, শাহরাস্তি থানা প্রতিষ্ঠার পর এক মাসে এত বেশি মাদক মামলা আগে কখনো দেখা যায়নি।
কচুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল হাই চৌধুরী জানিয়েছেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে শাহরাস্তি থানায় মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য পরিচিত শাহরাস্তি উপজেলার অপরাধ পরিস্থিতির এই পরিবর্তন স্থানীয় সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। সম্প্রতি পুলিশের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে এক মাদক ব্যবসায়ীর কথোপকথন ও অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় আসার পর বিষয়টি নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে অভিযোগের সত্যতা।
স্থানীয়দের মতে, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের কারণে শাহরাস্তির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল। বর্তমান সরকারের আমলেও বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঘটনা তেমন দেখা যায়নি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মাদক মামলার ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং এ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
সচেতন মহলের দাবি, পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা জরুরি। শাহরাস্তির দীর্ঘদিনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ, জনবান্ধব ও পেশাদার ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,