সরকারি অনুমতি ছাড়াই সিরাজগঞ্জে একাধিক লোড-আনলোড পয়েন্ট, রাজস্ব ক্ষতি ও জনভোগান্তির অভিযোগ
ওয়াসিম সেখ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জে সরকারি অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে একাধিক স্থানে পাথর, বালু ও অন্যান্য পণ্য লোড-আনলোডের ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সড়কে যানজট, জনভোগান্তি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের মুলিবাড়ি চেকপোস্ট সংলগ্ন হাইওয়ে ওভারব্রিজের পাশে দুই থেকে তিনটি লোড-আনলোড পয়েন্ট রয়েছে। এছাড়া কড্ডার মোড় ও ঝাউল ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকাতেও একইভাবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই এসব স্থানে ব্যবসা চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, মুলিবাড়ি চেকপোস্ট সংলগ্ন ওভারব্রিজের নিচের সড়ক এবং কড্ডার মোড়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখন অনেকটাই পাথর ও বালু ব্যবসায়ীদের দখলে। বিশেষ করে বর্ষাকালে বড় বড় ট্রাকে পণ্য লোড-আনলোডের কারণে সড়কে যানজট, কাদা ও চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টির সময় পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী, সিএনজি ও অটোরিকশার যাত্রীরা ওভারব্রিজের নিচে আশ্রয় নিতে গেলে সেখানে সারিবদ্ধ ট্রাক ও চলমান লোড-আনলোড কার্যক্রমের কারণে নিরাপদে অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। ট্রাকের চলাচল ও মালামাল ওঠানামার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওভারব্রিজের নিচে আশ্রয় নিতে আসা কয়েকজন পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহী জানান, বৃষ্টির সময় নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ওভারব্রিজের নিচে দাঁড়াতে গেলেও ট্রাকের ভিড় ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কারণে সেখানে জায়গা পাওয়া যায় না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীরা এবং বর্তমানে বিএনপির প্রভাবশালীরা এসব লোড-আনলোড পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাদের দাবি, অবৈধভাবে পরিচালিত এসব কার্যক্রমের কারণে মাঝেমধ্যেই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মুলিবাড়ি চেকপোস্ট এলাকার তিনটি লোড-আনলোড পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করেন সালাম সরদার। কড্ডার মোড় এলাকার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেন মুক্তার হোসেন এবং ঝাউল ওভারব্রিজ এলাকার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেন রায়হান।
এ বিষয়ে সালাম সরদার বলেন, আমরা এসব করি না। এখানে কিছু শ্রমিক কাজ করে, তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। আমরা শুধু গাড়ি ভাড়া দিয়েছি।” সরকারি অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না, এ বিষয়ে আমরা কোনো সরকারি অনুমতি নেইনি।
এ বিষয়ে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, যমুনা বহুমুখী সেতু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। আমরা তাদের জানিয়েছি, তারা যেদিন অভিযান পরিচালনা করবে, সেদিন আমরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করব।
এ বিষয়ে যমুনা বহুমুখী সেতু কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে অবৈধ লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।





