পঞ্চগড়ে স্কুল শিক্ষককে গাছে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ
একেএম বজলুর রহমান, পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ী ইউনিয়নে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে গাছে বেঁধে নির্যাতন ও টাকা নিয়ে নেওয়া এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা করেছেন আহত শিক্ষক মাহামুদ আলম প্রধান। এদিকে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
গত সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত মাহামুদ আলম প্রধান পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৭১ নম্বর গড়িনাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। বর্তমানে তিনি পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা রয়েছেন।
পঞ্চগড় সদর থানার অভিযোগে মাহামুদ আলম প্রধান উল্লেখ করেন, আসামিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার দিন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়ে অর্ধদিবস ছুটি নিয়ে ব্যাংকের প্রয়োজনীয় কাজের আগে দুপুরের খাবার খেতে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। পথে এক আসামির বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন তার পথরোধ করে। পরে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। হামলায় তার বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুল ভেঙে যায়। একপর্যায়ে তাকে একটি কাঁঠাল গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে গলা থেকে পা পর্যন্ত বেঁধে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। এ সময় তার স্কুলব্যাগে থাকা জমি বন্ধক ফেরতের জন্য আনা নগদ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অঅভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে হত্যা, লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া এবং বাড়িতে আগুন দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করারও হুমকি দেয়।
মাহামুদ আলম প্রধানের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসতে শুরু করেন। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিষ চন্দ্র বলেন, মোবাইলে জানতে পারি তিনি বিপদে আছেন। এরপর গ্রাম পুলিশকে তাকে উদ্ধারের জন্য পাঠাই। তবে এরই মধ্যে ৯৯৯-এ ফোন করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
অভিযুক্ত আনসার আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না। পরে বাড়িতে এসে বিষয়টি শুনেছি।
আহত শিক্ষক মাহামুদ আলম প্রধান বলেন, ভিডিওতে সবাই দেখেছেন আমাকে কীভাবে গাছে বেঁধে রাখা হয়েছিল। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





