পলাশবাড়ীতে গ্যাস লাইন,শিল্প কলকারখানা ও কর্মসংস্থানের দাবি
বায়েজিদ পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) :
উত্তরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে গ্যাসলাইন স্থাপন ও গ্যাস সংযোগের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, শ্রমজীবী, শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রত্যাশী যুবকসহ সর্বস্তরের মানুষের দাবি মাত্র ৩ কিঃমিঃ দুরে মেরিরহাট দিয়ে পলাশবাড়ীর বুক চিরে যাওয়া গ্যাসলাইন থেকে স্থানীয় শিল্প-কারখানা নির্মাণ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হলে এ অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে, বাড়বে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার।
ভৌগোলিক অবস্থানে পলাশবাড়ী উপজেলার মোট আয়তন ১৮৫.৩৩ বর্গকিলোমিটার। এই উপজেলার উত্তরে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ ও গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা, দক্ষিণে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা, পূর্বে গাইবান্ধা সদর ও সাঘাটা উপজেলা এবং পশ্চিমে দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলা অবস্থিত।
যে কারণে পলাশবাড়ী গাইবান্ধা জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের ক্ষেত্রে পলাশবাড়ীর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণেরও রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা।
স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সম্ভাবনার তুলনায় পলাশবাড়ীতে উল্লেখযোগ্য শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়নি। ফলে জীবিকার তাগিদে এ এলাকার অনেক মানুষ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলমুখী হচ্ছেন। শিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ চাকরি ও কর্মসংস্থানের আশায় দীর্ঘদিন ধরে বেকার হয়ে ঘুরছেন।
ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা বলছেন, পলাশবাড়ীর মেরিরহাট এলাকায় থাকা গ্যাসলাইন যদি পলাশবাড়ী পর্যন্ত সম্প্রসারণ করে শিল্প ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা হয়, তাহলে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে উঠতে পারে। এতে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং ঢাকামুখী মানুষের চাপও কমতে পারে।
পার্শ্ববর্তী গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ইপিজেড বাস্তবায়নের উদ্যোগ এগিয়ে যাওয়ায় পলাশবাড়ীর মানুষও নিজেদের এলাকায় শিল্পায়নের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। তাদের প্রশ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকায় যখন বড় শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তখন ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পলাশবাড়ী কেন শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকবে?
পলাশবাড়ীতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হলে শুধু বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা,কলকারখানা, খাদ্যপ্রক্রিয়াজাতকরণ, ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী ব্যবসা গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
এদিকে দীর্ঘদিনের কর্মসংস্থানের সংকটের কারণে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে বলেও মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, তরুণদের জন্য স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা না গেলে বেকারত্বের পাশাপাশি মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, পলাশবাড়ীর উন্নয়নে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও প্রতিনিধিত্বের টানাপোড়েনের প্রভাবও আলোচনায় এসেছে। তবে উন্নয়নের স্বার্থে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
এলাকার উন্নয়ন কোনো দল বা ব্যক্তির একক বিষয় নয়।এটি পুরো এলাকার মানুষের অধিকার। তাই সরকার, সংসদ সদস্য, উপজেলা ও পৌর প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সমাজ, উদ্যোক্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিয়ে পলাশবাড়ীতে গ্যাসলাইন সম্প্রসারণ, কলকারখানা স্থাপন, শিল্পায়নের পরিবেশ তৈরিতে একযোগে কাজ করতে হবে।
দীর্ঘদিনের অবহেলিত পলাশবাড়ীর জনসাধারণ ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের দাবি, প্রথম ধাপে মেরিরহাট থেকে মাত্র ৩ কিঃমিঃ দুরে পলাশবাড়ী পর্যন্ত গ্যাসলাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং শিল্প, কলকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে গ্যাস সংযোগের বিকল্প নেই। বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নিতে হবে।
সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে পলাশবাড়ীর উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গ্যাসলাইন সম্প্রসারণের দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দ্বার খুলবে এমনটাই আশা করছেন স্থানীয়রা।
তাদের সবার একটাই দাবি
“উত্তরের প্রবেশদ্বার পলাশবাড়ীকে আর পিছিয়ে নয়, শিল্পায়ন,কলকারখানা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পলাশবাড়ীকে এগিয়ে নিতে মাত্র ৩ কিঃমিঃ দুরে মেরিরহাট থেকে পলাশবাড়ীতে গ্যাসলাইন চাই।




