সদরপুরে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেসে তৈরি হচ্ছে ভেজাল খাদ্যপণ্য, শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রকট
স্টাফ রিপোর্টার, ফরিদপুর:
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আড়াইরশি গ্রামের ‘মেসার্স মা বাবার দোয়া’ বেকারিতে কোনো ধরনের নিয়মনীতি ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন এই প্রতিষ্ঠানে নোংরা ও খালি হাতে বিস্কুট, রুটি, কেক, ক্রিমরোল, বাটারবন ও টোস্ট বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তৈরি ও প্যাকেটজাত করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, বেকারির মালিক মো. ফারুকের নির্দেশনায় শ্রমিকেরা সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খালি হাতেই এসব খাদ্যপণ্য তৈরি করছেন। বিএসটিআইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্যপণ্য প্রস্তুতের সময় শ্রমিকদের হাতে গ্লোভস ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও এখানে তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হচ্ছে। এমনকি উৎপাদিত পণ্যের প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ করার নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে বেকারির মালিক ফারুকের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, “এগুলো লাগে না, কারণ আজ তৈরি করলে কালকের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়।”
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাতের আঁধারে বিভিন্ন ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদান মিশিয়ে এসব খাদ্যপণ্য তৈরি করা হয়। পাউরুটি তৈরিতে ইস্ট বার্মা এবং বিস্কুট তৈরিতে ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া, খাইসোডা ও বিষাক্ত অ্যামোনিয়া মিক্সড করে বেকিং পাউডার তৈরি করা হচ্ছে। এসব বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি খাদ্যপণ্য খেয়ে এলাকার শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে এবং নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
নিয়ম অনুযায়ী বেকারিতে কর্মরত শ্রমিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি সংরক্ষণ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও মালিকের কাছে কোনো শ্রমিকেরই এনআইডির কপি নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রমিকদের সঠিক পরিচয় বা নথি না থাকায় তারা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালেও তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, এর আগেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বেকারিতে কয়েক দফা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও সতর্ক করলেও বন্ধ হয়নি ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ।
সদরপুর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর তোফাজ্জেল হোসেন এ বিষয়ে বলেন, “অবশ্যই খাদ্যপণ্য তৈরি এবং প্যাকেটজাত করার সময়ে শ্রমিকদের হাতে গ্লোভস থাকা বাধ্যতামূলক।”
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবিলম্বে এই অবৈধ ও অস্বাস্থ্যকর বেকারির সব কাগজপত্র যাচাই করে কারখানাটি স্থায়ীভাবে সিলগালা করতে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন





