থানা প্রশাসনের নাকের ডগায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল! প্রশাসনে ভুমিকায় প্রশ্নবিদ্ধ?
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে প্রকাশ্যে মিছিলের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। থানা থেকে মাত্র ৮০০ মিটার দূরে ১১-১২ জনের অংশগ্রহণে মিছিল—এত কাছে থেকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি কোথায় ছিল? প্রশ্ন এলাকাবাসীর।
৮ নভেম্বর ভোরে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত ওয়াসিম আল ইমনের নেতৃত্বে মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগেও বোয়ালখালীর বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে মিছিলের অভিযোগ উঠেছে। তবে আগের ঘটনাগুলো প্রশাসনিক কেন্দ্র থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে হওয়ায় হয়তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসেনি—কিন্তু এবার তো মিছিল হয়েছে একেবারে থানার নাকের ডগায়!
এ বিষয়ে বোয়ালখালী থানা যুবদল নেতা আবদুস সালাম ছোটন প্রশ্ন তুলে বলেন, “আগের মিছিলগুলো প্রশাসনিক কেন্দ্র থেকে দুই-চার কিলোমিটার দূরে হওয়ায় হয়তো প্রশাসন তাৎক্ষণিক খবর পায়নি। কিন্তু এবার তো তাদের নাকের ডগায় মিছিল হয়েছে! প্রশাসন কি জানে?”
তার এই বক্তব্যের পর জনমনে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে—প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা চললেও প্রশাসনের আগাম গোয়েন্দা নজরদারি কোথায়?
বোয়ালখালী থানার ওসি ভিডিও পাওয়ার কথা স্বীকার করে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু শুধু ভিডিও সংগ্রহ ও পরিচয় শনাক্তেই কি দায়িত্ব শেষ? মিছিলের পরিকল্পনাকারী, সংগঠক এবং নেপথ্যের সহযোগীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া কতটা এগিয়েছে?
প্রশ্ন এখন একটাই—থানার এত কাছে মিছিল হলে প্রশাসন জানতে পারবে না কেন? নাকি সবকিছু দেখেও কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় থাকবে? বোয়ালখালীর স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি শুধু বক্তব্য নয়, দেশের ভেতরে অরাজকতা, নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনগত পদক্ষেপ দেখতে চায়।





