ফরিদগঞ্জে পুকুরের পানি সেচ ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা ও মারধরের অভিযোগ
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পুকুরের পানি সেচ ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক পরিবারের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি উপজেলার ৬ নং গুপ্টি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড পূর্ব লাউতলি গ্রামের লতিফগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় ঘটে।
ভুক্তভোগী মো. মনির হোসেন(৪৫) অভিযোগ করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী মিজি বাড়ীর রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেক (৩৫) ও আরাফাত (২০) পরিবারের সঙ্গে তাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলো। এরই জেরে পুকুরের পানি সেচকে কেন্দ্র করে ১৩/৩/২৬ শুক্রবার রাত ১০ টায় তারা ও তাদের অনুসারীরা আমার বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এমনকি তারা আমাদের ঘর থেকে ঢেকে নিয়ে স্থানীয় লতিফগঞ্জ বাজারের কাছে হামলা চালায়। হামলা প্রতিরোধ করতে গেলে নারীসহ অন্তত তিনজনকে মারধর করা হয়। তাদের হামলায় মা ভাইসহ আমরা ৩ জন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেই। আমি উক্ত ঘটনায় প্রশাসনের কাছে উপযুক্ত বিচার দাবী করছি।
এ ঘটনায় মো: মনির হোসেন বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় ৩ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন— রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেক(৩৫) ও আরাফাত(২০) ও তার স্ত্রী নয়নতারা (৫৫)।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে হামলা ও মারধরের ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, তারেক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রির পাশাপাশি তিনি ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে ভিডিও ধারণ করেন এবং পুকুরে গোসল করতে যাওয়া নারীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ
বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, এর আগেও পরকীয়ার অভিযোগে একবার তাকে হাতেনাতে আটক করে জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে বিষয়টি মীমাংসা করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপরও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ করেন তারা।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, এমন ঘটনায় যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুদ হোসেন(৪৫) জানান, আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখি অনেক মানুষের সমাগম। কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই তারেকের ভাই আরাফাত তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে তারেক এসেও তার যোগ দিয়ে ৫/৬ জন পোলাপান নিয়ে হামলা চালায়। তবে তারেকের মা হামলার শিকার হয়েছে এ বিষয়টি আমি অবগত নই এবং মনির হোসেনের ঘরে হামলা হয়েছে এটা আমি পরে দেখেছি। এরপরে থানায় ফোনকল করি এসআই হেলাল সাহেব এসে ঘটনাস্থল তদন্ত করে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই হেলাল উদ্দিন জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।




