মঘিয়ায় বারুনি স্নান উৎসবে মন্দির কমিটির ‘স্বেচ্ছাচারিতা’, সনাতন সম্প্রদায়ের ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিনিধি বাগেরহাট|
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার মঘিয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বারুনি স্নান উৎসবে স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের মতামত উপেক্ষা ও একপাক্ষিক আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। উৎসব কমিটির এই কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট কচুয়া উপজেলা শাখা ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কচুয়া উপজেলা শাখা এবং স্থানীয় হিন্দু নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট এর সদস্য সচিব গৌতম রায় মনা বলেন, “এটি একটি প্রাচীন পীঠস্থান। দীর্ঘকাল ধরে এখানে উৎসব ও মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। অতীতে প্রশাসন ও স্থানীয় হিন্দু নেতৃবৃন্দকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হতো। কিন্তু এ বছর স্বৈরাচারী কায়দায় আমাদের সংগঠনের কাউকে কোনো আমন্ত্রণ বা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর ও মানহানিকর।”
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যান ফ্রন্ট কচুয়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক ও কচুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল কুমার দাস জানান, মন্দিরটি তার নিজ ওয়ার্ডে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় মেম্বার ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে কোনো সভা বা সিদ্ধান্তে জানানো হয়নি। তিনি বলেন,
”স্বৈরাচারী শাসনামলেও আমাদের মতামত নেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমান সভাপতি অধির কুমার হালদার ও সাধারণ সম্পাদক অদৃশ্য শক্তির প্ররোচনায় ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলে মেলা পরিচালনা করছেন। শুধু তাই নয়, অতীতে কচুয়া প্রেসক্লাবকে জানানো হলেও এবার সম্পূর্ণ আড়ালে রাখা হয়েছে।”
তিনি অবিলম্বে এই ‘অবৈধ’ ও ‘স্বেচ্ছাচারী’ কমিটি বিলুপ্ত করে সকল সনাতন সম্প্রদায়ের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান।
এবারের মেলায় রমজানসহ বিভিন্ন কারণে বেচাকেনা কম থাকলেও ক্ষুদ্র দোকানদারদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া মেলায় দায়িত্ব পালনকারী ৯ জন গ্রাম পুলিশের সাথেও অপমানজনক আচরণের খবর পাওয়া গেছে। দুই দিন দায়িত্ব পালনের পর জনপ্রতি মাত্র ১০০ টাকা করে দিলে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং মন্দির কমিটির অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ জানান।
স্থানীয়দের দাবি
এলাকার সাধারণ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মনে করছেন, একটি ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে গুটি কয়েক মানুষের স্বার্থে ব্যবহার করায় মেলার পবিত্রতা ও সৌহার্দ্য নষ্ট হচ্ছে। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




