এডহক কমিটির সভাপতির অবৈধ মনোনয়নের প্রতিবাদে উত্তাল ফরিদগঞ্জ : মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের মতামত উপেক্ষা করে এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বদরপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়ন দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৫ই অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার দক্ষিণ বদরপুর এলাকার সর্বস্তরের জনগণ, অভিভাবক, মাদ্রাসার বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অনৈতিক সুবিধা বা রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে মোঃ ফখরুল আলম নামে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। এই অবৈধ মনোনয়নের ফলে প্রতিষ্ঠানের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা বলেন, “অনতিবিলম্বে এই অবৈধ সভাপতির মনোনয়ন বাতিল করতে হবে। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই বিতর্কিত মনোনয়ন বাতিল করে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া না হয়, তবে আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।” তারা এ বিষয়ে উচ্চ মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মফিজুল ইসলাম বলেন, সভাপতি মনোনয়নের জন্য প্রতিষ্ঠান হতে ৩ জনের একটি তালিকা/ প্রস্তাবনা প্রস্তুত করতে হয়। এই তালিকায় সদ্য মনোনীত সভাপতি মোঃ ফখরুল আলমের নাম নেই। স্থানীয় এমপি মহোদয় তালিকার ১ নং ব্যক্তি মোঃ ইউনুছ সাহেবকে সুপারিশ করার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনুমোদন দিয়েছেন। তারপর ইউএনও মহোদয় উক্ত তালিকা জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরন করেন। জেলা প্রশাসক অনুমোদন দিয়ে ১ কপি মনোনয়নের জন্য মাদ্রাসা বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর প্রেরন করেন। দ্বিতীয় কপি অন্যান্য ডকুমেন্টস সহ মাদ্রাসা বোর্ডে অনলাইনে আবেদন করা হয়। সকল প্রক্রিয়া শেষ করে আবেদনে সভাপতি হিসেবে সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী মোঃ ইউনুছকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রস্তাবনা, এমপি মহোদয়ের লিখিত ও মৌখিক সুপারিশ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসকের অনুমোদন এর তালিকার কোথাও সদ্য মনোনয়নকৃত সভাপতি মোঃ ফখরুল আলমের নাম নেই। এটা কিভাবে হয়েছে তা আমার জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে আমরা বিব্রত। উক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত স্বাপেক্ষে বৈধ ব্যক্তিকে সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হোক।
মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল উপজেলা নির্বাহী অফিসার-এর কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে অবৈধ মনোনয়নের সুনির্দিষ্ট কারণ ও নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণাদি তুলে ধরা হয়। কর্তৃপক্ষ স্মারকলিপি গ্রহণ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
উক্ত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




