খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনে মুখর তারাগঞ্জ, মিলল স্বীকৃতি
জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
“উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রংপুরের তারাগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ, বিজ্ঞান মেলা এবং ১০ম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোনাববর হোসেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সুধীজন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল মেলায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনী। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানভিত্তিক নানামুখী সৃজনশীল প্রকল্প উপস্থাপন করে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, কৃষি উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি এবং দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা সমাধানভিত্তিক নানা উদ্ভাবন মেলায় স্থান পায়, যা তরুণদের সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিভাত হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন। মেলা শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ প্রকল্প নির্বাচিত করা হয় এবং বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিজ্ঞানমনস্ক ও উদ্ভাবনী চিন্তাধারার শিক্ষার্থী গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এ ধরনের বিজ্ঞান মেলা ও অলিম্পিয়াড শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণামূলক মনোভাব সৃষ্টি করে এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনে উদ্বুদ্ধ করে। তারা আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মের মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশ টেকসই উন্নয়নের পথে আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।
জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই বিজ্ঞান মেলা তারাগঞ্জের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে দেশের বিজ্ঞানভিত্তিক মানবসম্পদ গড়ে ওঠার পথ আরও সুগম হবে।




