এক আঙুলের কালি, সাত দিনের হিসাব—তারাগঞ্জে জ্বালানি বণ্টনে নতুন কৌশল
জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্যতিক্রমী ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে অনলাইন নিবন্ধন ও আঙুলে অমোচনীয় কালি ব্যবহারের মাধ্যমে ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে নিয়ন্ত্রিতভাবে জ্বালানি বিতরণ করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে স্থানীয় পর্যায়ে যুক্ত হয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তারা। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে অনলাইন নিবন্ধনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এসব উদ্যোক্তা। কুর্শা ইউনিয়নের উদ্যোক্তা মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, পুরো প্রক্রিয়াটি একটি নির্দিষ্ট অ্যাপসের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে, যা গ্রাহকদের তথ্য সংরক্ষণ ও যাচাইয়ে সহায়তা করছে।
নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় একজন গ্রাহক বা মোটরসাইকেল চালককে তার মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর প্রদান করতে হচ্ছে। এসব তথ্য যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে একটি টোকেন প্রদান করা হচ্ছে। শুধুমাত্র নিবন্ধিত গ্রাহকরাই এই টোকেনের মাধ্যমে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন।
নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, একজন গ্রাহক ৭ দিনের মধ্যে একবার সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার জ্বালানি নিতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের আগে পুনরায় জ্বালানি নিতে এলে অনলাইন সিস্টেমে তা শনাক্ত হয়ে যাবে, ফলে একই ব্যক্তির একাধিকবার জ্বালানি নেওয়ার সুযোগ থাকছে না।
এছাড়াও, একই ব্যক্তি যাতে ভিন্ন পরিচয়ে বা পুনরায় লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি নিতে না পারেন, সে জন্য তাদের আঙুলে অমোচনীয় কালি প্রয়োগ করা হচ্ছে। এতে করে জ্বালানি বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোনাব্বর হোসেন জানান, “জ্বালানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে এবং অপচয় ও অবৈধ মজুদদারি রোধে আমরা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, যাতে জ্বালানি সংকটের কারণে উপজেলায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। সাধারণ মানুষ যেন প্রয়োজনীয় জ্বালানি পেয়ে তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালাতে পারেন, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা অন্যান্য এলাকাতেও চালু করা হলে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।





