ছাতকে তিন দিনব্যাপী নৌযান শুমারির প্রশিক্ষণ উদ্বোধন
তানভীর আহমদ জাকির, ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে নৌযান শুমারি ২০২৬-এর শুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত জোনাল অফিসার ও তথ্য সংগ্রহকারীদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ উদ্বোধন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ মহিউদ্দিন। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় ছাতক উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তিনি। ১৫ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তথ্য সংগ্রহকারীদের শুমারি পরিচালনা, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, প্রশ্নপত্র পূরণ, তথ্য যাচাই-বাছাই এবং সঠিকভাবে তথ্য সংরক্ষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণে সভাপতিত্ব করেন ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন। শুমারি কার্যক্রমের সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. আমিনুল ইসলাম সরকার। প্রশিক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জোনাল অফিসার ও তথ্য সংগ্রহকারীরা অংশগ্রহণ করেন। ছাতক ও জগন্নাথপুর এলাকায় নৌযান শুমারি কার্যক্রমে জোনাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সুমন লাল দাস (জোন-০৬), উত্তম দাস (জোন-০৭), মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং মো. আনিসুল ইসলাম (জোন-০৯)। প্রশিক্ষণ শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহকারীরা নির্ধারিত এলাকায় গিয়ে নৌযান মালিক, চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের উদ্যোগে সারাদেশে নৌযান শুমারি ২০২৬-এর এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দেশের নৌপরিবহন খাতের একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরির লক্ষ্যে এ শুমারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। শুমারির আওতায় বিভিন্ন ধরনের নৌযানের সংখ্যা, ধরন, ব্যবহার, মালিকানা, অবস্থান এবং নৌযান-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি নৌপথে চলাচলকারী বিভিন্ন শ্রেণির নৌযানের প্রকৃত সংখ্যা ও অবস্থা সম্পর্কে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে দেশের নৌপরিবহন খাতের একটি হালনাগাদ চিত্র পাওয়া যাবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সঠিক পরিসংখ্যান ছাড়া নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা, অবকাঠামো নির্মাণ, নৌপথ ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি নীতিমালা প্রণয়ন কার্যকরভাবে করা কঠিন। তাই শুমারিতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নির্ভুল ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সংগ্রহের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের সময় সংশ্লিষ্ট নৌযান মালিক ও ব্যবহারকারীদের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং সংগৃহীত তথ্য যাচাই করে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংরক্ষণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কোনো নৌযান বাদ না পড়া এবং একই নৌযানের তথ্য একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার বিষয়েও মাঠকর্মীদের সতর্ক করা হচ্ছে।
ছাতকসহ সুনামগঞ্জের বিভিন্ন নদ-নদী ও নৌপথে নৌযান চলাচল গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ শুমারি স্থানীয় পর্যায়েও নৌপরিবহন খাতের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শুমারি থেকে প্রাপ্ত তথ্য ভবিষ্যতে নৌযান ব্যবস্থাপনা ও নৌপথকেন্দ্রিক সরকারি পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে মূল তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত জোনাল অফিসার ও তথ্য সংগ্রহকারীরা সংশ্লিষ্ট এলাকায় নৌযান পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। এ কার্যক্রম সফল করতে নৌযান মালিক, চালক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।





