ছাপরা ঘর থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন’: ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে ডেপুটি স্পিকার
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে সবচেয়ে দরিদ্র, অসহায় ও প্রান্তিক মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তথ্য সংগ্রহকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘আপনারা তথ্য সংগ্রহ করবেন ছাপরা ঘর থেকে। নিম্নবিত্তদের কাছে যাবেন, অসহায়দের কাছে যাবেন। যার ঘর নেই, তার তথ্য সংগ্রহ করবেন।’
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে ফ্যামিলি কার্ড ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জরিপের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সঙ্গে আয়োজিত নির্দেশনামূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় এ সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন।
তথ্য সংগ্রহকারীদের সতর্ক করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীদের বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করছি, সরকার আপনাদের একটি ভাতা দিবে। কাজের বিনিময়েই আপনারা তা পাচ্ছেন। এর বাইরে গিয়ে যদি স্বজনপ্রীতি করেন, দুর্নীতি করেন—দুটিই কিন্তু সমান অপরাধ।’
তিনি বলেন, প্রথম দিকে কলমাকান্দায় যারা ফ্যামিলি কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহ করেছেন, তারা টাকার বিনিময়ে কার্ড দিয়েছেন এ কথা আমি বলবো না। তবে তাদের মধ্যে সততার অভাব ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণে এবার তথ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিতদের সঙ্গে সরাসরি বসে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান।
ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা তৈরিতে প্রকৃত দরিদ্রদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘দারিদ্র্যের মধ্যে যারা জর্জরিত, তাদের সর্বপ্রথম তথ্য নেবেন।’ পাকা দালানের মালিক বা সচ্ছল ব্যক্তিদের আগে তালিকাভুক্ত না করে প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত পরিবার চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, ‘আমি নির্বাচনের আগে যে কথা দিয়েছিলাম, আমি কিন্তু সেটা করে দেখাব ইনশাআল্লাহ।’ সরকারি এ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা অন্য কোনো প্রভাব বিবেচনায় না নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
সভায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জীবনমান নিয়েও কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার। কলমাকান্দার দুর্গম পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী গারো ও হাজং জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, পানীয় জল ও বাসস্থানের সংকট দূরীকরণে সরকারের বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। জরিপের কাজে নিয়োজিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
এ সময় বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গও উঠে আসে। লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটায় দুঃখ প্রকাশ করে দিনের আলো কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




