“পাটক্ষেতে মিলেছিল সানজিদার নিথর দেহ, হত্যারহস্যে পুলিশের জালে যুবক”
জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় আলোচিত শিশু সানজিদা হত্যা মামলার ঘটনায় মুজাহিদ ইসলাম (১৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) রাতে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর কোরানি পাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক মুজাহিদ ইসলাম ওই এলাকার সেকেন্দার আলীর ছেলে। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ শুরু থেকেই ব্যাপক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত, স্থানীয়দের বক্তব্য এবং প্রাপ্ত আলামত পর্যালোচনার ভিত্তিতে সোমবার রাতে মুজাহিদ ইসলামকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সানজিদা হত্যা মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুজাহিদ ইসলামকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।”
উল্লেখ্য, গত শনিবার সকালে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর কোরানি পাড়া গ্রামের একটি পাটক্ষেত থেকে সানজিদা (৯) নামে এক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে শিশুটি নিখোঁজ ছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর তার মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য শিগগিরই উদ্ঘাটিত হবে।




