পাথরঘাটায় দূষণের বিরুদ্ধে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় করণীয় নির্ধারণে অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি:
পাথরঘাটা পৌরসভায় পরিবেশ দূষণ রোধ ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় করণীয় নির্ধারণে একটি অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৮ জুন) সকালে নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস) প্রকল্প কার্যালয়ে অ্যাক্টিভিস্টা বরগুনার আয়োজনে এবং নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস) ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ধারাবাহিক ফলোআপ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত সভায় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, বাজার কমিটির সভাপতি, গণমাধ্যমকর্মী, সমাজকর্মী, পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী, তরুণ প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সভার উদ্দেশ্য তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন এফআরটি প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. মনিরুজ্জামান।
আলোচনায় বক্তারা পৌর এলাকার বর্জ্য দূষণ ও জলাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত একটি স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের দাবি জানান।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মজিবুল হায়দার বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ডাম্পিং স্টেশনের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৫ কিলোমিটার বক্স ড্রেন নির্মাণ, ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার ড্রেনেজ সংস্কার, ময়লা অপসারণে প্রয়োজনীয় ডাম্প সরবরাহ এবং প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিন অপসারণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া বাজার কমিটি ও পৌরবাসীর সমন্বয়ে মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. মেহেদি হাসান জানান, পাথরঘাটা পৌরসভার নিরাপদ সুপেয় পানির সমস্যা সমাধানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২০২৭ সালের শুরুতে একটি পানি শোধনাগার (ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের পানির সংকট অনেকাংশে দূর হবে।
সমাজকর্মী এরফান আহমেদ সোয়েন বলেন, পরিবেশ দূষণ রোধে সচেতনতার সূচনা পরিবার থেকেই করতে হবে। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলে পৌরসভার নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলতে হবে।
ধরিত্রী আন্দোলনের পাথরঘাটা উপজেলা সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা তৈরির কোনো বিকল্প নেই। এখনই তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
সভা শেষে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে সাত দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সুপারিশগুলোর মধ্যে ছিল— স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশনের স্থান ও সময়সীমা ঘোষণা, প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহের সময়সূচি প্রকাশ, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন ও কনটেইনার স্থাপন, পলিথিনবিরোধী নিয়মিত অভিযান, বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে যৌথ কর্মপরিকল্পনা, বর্জ্য পৃথকীকরণ ও পুনর্ব্যবহারের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম এবং নাগরিক ও যুব প্রতিনিধিদের নিয়ে নিয়মিত ফলোআপ সভা আয়োজন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্মী ইসরাত জাহান শিরিন, সংকল্প ট্রাস্টের পরিচালক মো. আবদুর রহিম, এনএসএসের পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম, বাজার কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল কাদের, পাথরঘাটা প্রেসক্লাবের সম্পাদক মুহ. নজমুল হক সেলিম, পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম, অ্যাক্টিভিস্টা বরগুনার প্রতিনিধিরা, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ইনস্পিরেটর সুমন আচার্য, ইয়ুথ ফেলো এবং প্রকল্প কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পাথরঘাটা ইয়ুথ হাবের সভাপতি মো. জাকির হোসেন নাইম।





