সুন্দরবন থেকে মধু আহরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম
মোঃ খলিলুর রহমান,সাতক্ষীরা ::
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, চলতি বছর সুন্দরবনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধে জড়িতদের আগামী বছর বনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। কঠোর নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে সুন্দরবনকে সুরক্ষিত রাখা হবে।
বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুন্দরবন থেকে ৬০ দিন ব্যাপী মধু সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন উপলক্ষে উপজেলার নীলডুমুর ফরেষ্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মধু আহরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনের পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী সুন্দরবনে তৎপর জলদস্যু নির্মুলে বিশেষ অভিযানেরও উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বৈধভাবে সুন্দবনে যাতায়াতকারী বনজীবীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য তিনি র্যাব, বিজিবি, পুলিশ, কোস্টগার্ড সদস্যদের নির্দেশনা দেন।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে অচিরেই দস্যুমুক্ত করা হবে। এছাড়া জলদস্যুদের সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীলদের বনজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে সুন্দরবনে তৎপর জলদস্যুদের একটি তালিকা তৈরী করা হয়েছে। যা মধু সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনের আগে বিভিন্ন বাহিনীকে সরবরাহ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনের মধু একটি একটি ইউনিক জিনিসি, এর সুনাম নষ্ট করবেন না। মধুতে যেন ভেজাল মিশানো না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যারা মধু ব্যবসার সাথে জড়িত আগে তাদেরকে সৎ হতে হবে। শিক্ষিত বেকার যুবকরা অনলাইনে প্রশিক্ষণ নিয়ে মধুর ব্রান্ডিং করে স্বাবলম্বী হতে পারে। তবে তার আগে সুন্দরবনের মধুর প্রতি আস্থা তৈরী করতে হবে। এছাড়া সুন্দরবন বন্ধের সময়ে জেলেরা যেন সরকারি সহায়তা পায় সেদিকে খেয়াল রাখার পাশাপাশি তিনি কৃষকের পাশাপাশি বনজীবীদের জেলে কোটায় সহায়তা দেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।
পর্যটন বিকাশে কাজ করতে হলে আগে স্থানীয়দের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। পর্যটকরা আসার আগে জলদস্যুতা মুক্ত করা না হলে পর্যটকরা ভীত হলে আসতে অনাগ্রহ দেখাবে।
সভায় অপরাপর বক্তারা জানান, সেই ১৮৬০ সাল থেকে মধু সংগ্রহ চলছে। অপরিপক্ক মধু যেমন সংগ্রহ করা যাবে না তেমনি মধুর ড্রামে যেন লবন পানি প্রবেশ না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জিআই স্বীকৃতি লাভ করায় তার গুনগত মান রক্ষার পাশাপাশি মধুতে যেন ভেজাল না মিশানো হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটানোর জন্য তারা প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণ করেন।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদের সভাপতিত্বে মধু আহরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক আফরোজা আক্তার, পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল, র্যাব সিও লেঃ কর্নেল নিস্তার আহমেদ, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হাসানুর রহমান, জেলা বিএনপি আহবায়ক রহমতউল্লাহ পলাশ, যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ মনিরুজ্জামান, গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, বুড়িগোয়ালীনি ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, আব্দুল ওয়াহেদ, সোলায়মান কবির।
পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম শ্যামনগরে খাল খনন কর্মসুচির উদ্বোধন করেন।





