হাড়কাঁপানো শীতে কাঁপছে সাতক্ষীরার জনপদ, বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ
মোঃ খলিলুর রহমান, সাতক্ষীরা ::
প্রকৃতিতে এখন শীতের মাঝামাঝি সময় । উত্তরের মৃদু বাতাসের ঝাপটায় সাতক্ষীরাজুড়ে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। কুয়াশার চাদর ভেদ করে সূর্যের দেখা কখনও মিললেও রোদ্র নেই । তীব্র এই শীতের কামড়ে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি নাজেহাল হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষরা।
সোমবার ভোরে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘন কুয়াশায় ঢাকা জনপদ। রিকশাচালক, ভ্যানচালক আর দিনমজুরেরা খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। তবে শীতের প্রকোপে সাধারণ মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। যাত্রী না থাকায় রিকশা ও ভ্যানচালকদের আয় কমে গেছে অর্ধেকেরও কম।
শহরের দিনমজুর আলাউদ্দিন বলেন, ‘শীতের চোটে হাত-পা অবশ হয়ে আসছে। রাস্তায় মানুষ নেই, কাজও নেই। দিন এনে দিন খাই, এখন ঘরে চাল তুলব কীভাবে?’ একই আক্ষেপ শোনা গেল আহসানের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, শীতের এই কামড়ে বাইরে বের হওয়াই দায়, কিন্তু পেটের দায়ে বের হতে হয়।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শুক্রবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেই পারদ আরও নামার শঙ্কা রয়েছে। এই নিম্ন তাপমাত্রার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিশু ও বৃদ্ধদের ওপর। শীতজনিত নানা রোগের প্রাদুর্ভাবও বাড়ছে ঘরে ঘরে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখন অতিমাত্রায় শীতার্ত। সরকারিভাবে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হলেও চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শীতার্তদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে কেবল সরকারি সহায়তা নয়, সমাজের বিত্তবানদেরও এই বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা।
পৌষের এই হিমেল রাত আর কুয়াশাচ্ছন দিনগুলো বিত্তশালীদের কাছে আরামদায়ক মনে হলেও, সাতক্ষীরার প্রান্তিক মানুষের কাছে তা এখন এক কঠিন অস্তিত্বের লড়াই।




