শুরু হলো ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি রক্তে লেখা অধিকার থেকে বিশ্বমুখী বাংলার গৌরবগাথা
জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি-
ইংরেজি ক্যালেন্ডারে ফেব্রুয়ারির আগমন মানেই বাঙালির গৌরব-গাঁথার নতুন উচ্চারণ। এই মাসটি শুধু একটি সময়পর্ব নয়; এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, আত্মত্যাগ ও অর্জনের ইতিহাস। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি এলেই ফিরে আসে সেই রক্তঝরা অধ্যায়—যেখানে স্লোগান, মিছিল আর বুকভরা সাহসে তাজা রক্ত ঢেলে বাঙালি ছিনিয়ে নিয়েছিল তার প্রথম অধিকার—বাংলা ভাষা।
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। মাতৃভাষার দাবিতে রাজপথে নেমে আসা ছাত্র-জনতার বুকের রক্তে রঞ্জিত হয় ঢাকার রাজপথ। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অগণিত শহীদের আত্মত্যাগে অর্জিত হয় রাষ্ট্রভাষা বাংলার স্বীকৃতি—যা পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনের বীজ রোপণ করে।
১৯৫২ থেকে ২০২৬—দীর্ঘ ৭৪ বছরের পথচলায় ভাষা আন্দোলনের রক্তমাখা ইতিহাস বাঙালিকে করেছে গৌরবান্বিত। মাত্র ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ভূখণ্ড পেরিয়ে বাংলা ভাষা আজ কেবল একটি দেশের ভাষা নয়—এটি বিশ্বের ভাষা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারির স্বীকৃতি বিশ্বদরবারে বাংলার মর্যাদাকে দিয়েছে অনন্য উচ্চতা।
আজ বাংলা ভাষা উচ্চারিত হয় দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে। প্রবাসী বাঙালির কণ্ঠে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে, গবেষণা ও সাহিত্যে—বাংলা ভাষা তার শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে আপন মহিমায়।
সমসাময়িকতার প্রেক্ষাপটে ভাষার বহমান যাত্রা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে আসে। প্রযুক্তির বিকাশ, ভিনদেশি শব্দের আগ্রাসন কিংবা ভাষার রূপান্তর—সবকিছু মিলিয়ে শঙ্কা যেমন আছে, তেমনি আছে সম্ভাবনাও। তবে উত্তর একটাই—এই পরিবর্তনের মাঝেও বাংলা ভাষাই আমাদের পরিচয়, আমাদের অহংকার।
ভাষাবিদদের মতে, ভাষা পরিবর্তিত হবে, আধুনিক হবে—কিন্তু তার মূল সত্তা অক্ষুণ্ন রাখাই বাঙালির দায়িত্ব। ভাষার মাস সেই দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেয় বারবার।
সময় যতই গড়ায়, ততই বাড়ে গৌরবের ব্যাপ্তি ও প্রসার। যেন হাজার বছর ধরে চলে গৌরবের এক রিলে রেস—প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয় ভাষা ও চেতনার মশাল। এই দৌড়ের চূড়ান্ত ধাপে বারবার জয়ী হয় দেশ, মানুষ আর আমাদের বাংলা ভাষা।
ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি তাই কেবল স্মরণ নয়—এটি শপথের সময়। শুদ্ধ বাংলা চর্চা, ভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই গৌরবের ইতিহাস তুলে ধরাই হোক ফেব্রুয়ারির অঙ্গীকার।





