ভূঞাপুরে কুকুরের কামড়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, ভ্যাকসিন সংকটে ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য!
মাসুদ রানা , ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বিকারগ্রস্ত কুকুরের উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই এসব কুকুরের কামড়ে আহত হচ্ছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট, যা জনমনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন কুকুরে কামড়ানো রোগী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন ওষুধের দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে পারছে না ওষুধ কোম্পানিগুলো। ফার্মেসি মালিকদের মতে, কাঁচামালের সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, কোম্পানির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ বলেন,
“বর্তমানে আমাদের হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই। এ জন্য আবেদন করা হয়েছে। আপাতত আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।”
অন্যদিকে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. স্বপন চন্দ্র দেবনাথ জানান,
“দুই বছর আগে প্রায় ৭০ শতাংশ কুকুরকে টিকা দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে দ্রুত নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) পৌর এলাকার দেওয়ানবাড়ি মাদরাসার দুই শিক্ষার্থীসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২০ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তাঘাটে অবাধে ঘুরে বেড়ানো কুকুরের কারণে শিশু, বৃদ্ধ ও পথচারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। ভ্যাকসিন না পেয়ে অনেকেই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিকারগ্রস্ত কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।





