শরীয়তপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কসহ আটক ২: বিপুল অস্ত্র উদ্ধার
জিহাদ হাসান
শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি
শরীয়তপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাতভর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে যৌথ বাহিনী। গত ৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে শরীয়তপুর সদর, নড়িয়া ও ডামুড্যা উপজেলায় পৃথক তিনটি অভিযানে জেলা ছাত্রদলের এক নারী নেত্রীসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও দেশীয় অস্ত্র।
অভিযানের বিস্তারিত: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অন্তর্গত ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের অধীনস্থ ৫ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও বাংলাদেশ পুলিশ এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
১. সদর উপজেলা: শরীয়তপুর সদর আর্মি ক্যাম্পের মেজর সাজেদুর রহমানের নেতৃত্বে শহরের অন্দারিয়া স্বর্ণঘোষ এলাকায় রাত আনুমানিক ৩ ঘটিকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে শরীয়তপুর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমত জাহান ওরফে ইলোরা হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি স্থানীয় সন্ত্রাসী মন্টু তালুকদারের স্ত্রী। মন্টু তালুকদার বর্তমানে ৭টি মামলার অভিযুক্ত আসামি। এখান থেকে ১টি টমাহক শটগান, ২টি একে-২২ বোর সেমি অটোমেটিক রাইফেল এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
২. নড়িয়া ও ডামুড্যা: নড়িয়া আর্মি ক্যাম্পের মেজর অনন্যর নেতৃত্বে মুক্তারের চর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে রাব্বি মোড়ল নামে একজনকে আটক করা হয়। অন্যদিকে ডামুড্যা আর্মি ক্যাম্পের মেজর আবরারের নেতৃত্বে ইরিকটি এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ইলেকট্রিক শক মেশিনসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
একনজরে উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম:
যৌথ বাহিনীর অভিযানে উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামের তালিকায় রয়েছে:
অস্ত্র: ১টি টমাহক শটগান, ১টি একনলা বন্দুক ও ২টি একে-২২ বোর সেমি অটোমেটিক রাইফেল।
গোলাবারুদ: ৩টি ম্যাগাজিন, ৭১ রাউন্ড শটগান এম্যুনিশন, ৫৭ রাউন্ড রাইফেল এম্যুনিশন, ১২ রাউন্ড ৯ মিমি পিস্তল এম্যুনিশন এবং ৭টি কার্তুজ।
দেশীয় ও অন্যান্য সরঞ্জাম: ১টি ইলেকট্রিক শক মেশিন, ৩টি চাইনিজ কুড়াল, ৩টি রামদা, ২টি চাপাতি, ২টি ছুরি, ১টি বিদেশি ড্যাগার, ৩ বোতল বিদেশি মদ এবং মাদক গ্রহণের সরঞ্জামাদি।
যৌথ বাহিনীর বার্তা: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত ২০ জুলাই ২০২৪ থেকে তারা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ ককটেল ও অসংখ্য আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।





