মাদারীপুরে সরকারি খাল ভরাট নিয়ে দুপক্ষের উত্তেজনা
মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তোফাপুর ইউনিয়নের বালিয়া এলাকায় সরকারি খালে বালি ফেলে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে কালাম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তবে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করাসহ প্রতি পক্ষের বিরুদ্ধেও নানান অভিযোগ করেন কালাম শেখ। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা চলছে। ৭ ফেব্রুয়ারী শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি খালে বালি ফেলে ভরাটের কাজ চলতে থাকে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ সাময়িকভাবে ভরাট কাজ বন্ধ করে দেয়। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর পুনরায় ভরাট কার্যক্রম শুরু করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
জানা যায়, বেশ কিছু আগ থেকেই কালাম শেখের সাথে প্রতিবেশী মুনজিলা বেগমের পরিবারের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। কালাম শেখ তার বাড়ির সাথে ৬শতাংশ জমি ক্রয় করেন। অন্যদিকে প্রতিবেশীরা কালামের ক্রয়কৃত জমিতে কোটে টাকা দাখিল করেন। এনিয়ে বিরোধী শুরু হলে, আদালতে মামলা করলে, আদালত ১৪৫ ধারা জারি করেন। পুলিশ এসে এবিষয়ে উভয় পক্ষকেই নোটিশ দিয়ে যায়। নোটিশে বলা হয়, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এতে যে কোন সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। এ কারণে আদালত বিরোধীয় সম্পত্তিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো ধরনের দখল পরিবর্তন বা বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। নালিশি সম্পত্তির তফসিলে উল্লেখ আছে, নির্দিষ্ট দাগ নম্বরের জমির অংশবিশেষ নিয়ে এ বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। জমির চারদিকে সরকারি খাল, বাদীর নিজ জমি, বিবাদীর জমি ও সাহিদুল খানের জমি সীমানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তির পর নির্দেশ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মুনজিলা জানান, সরকারী খাল ভরাটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মাদারীপুর আদালতে ১৪৫ ধারা জারির আবেদন করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন বলে তিনি দাবি করেন।
এবিষয়ে কালাম শেখ বলেন, আমি আমার বাড়ির কাজ শুরু করেছি। তবে আমি যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে, সেই জমিতে বাড়ি করতেছি না। তিনি বলেন, প্রতিবেশী খান বাড়ির লোকজন আমাদের বাড়িতে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। বাড়ি তৈরীর মালামাল কিভাবে নিবো। তাই অস্থায়ীভাবে বালি দিয়ে খাল ভরাট করেছি। পুলিশ এসেছিল এখন কাজ বন্ধ রাখবো।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





